
শেষ আপডেট: 19 September 2023 02:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদে ফের মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ফলে অনেকেরই স্মৃতির পাতায় ফের ভেসে উঠছে এই বিল পেশ নিয়ে লোকসভায় নাটকীয় কিছু ঘটনা।
১৯৯৮ সালে কেন্দ্রে অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার তৈরি হওয়ার পর মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সবচেয়ে সরব ছিলেন মমতা। তখনও এনডিএ-র শরিক নন তিনি। মমতার সঙ্গে (Mamata Banerjee on Women Reservation Bill) সেই দাবিতে যোগ্য সঙ্গত করেছিলেন বিজেপি সাংসদ সুমিত্রা মহাজন। তাঁদের দাবি ছিল, অবিলম্বে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে হবে। ১৯৯৮ সালের ১২ জুলাই এই দুই সাংসদ মহিলা বিল পাশের দাবিতে প্রায় অচল করে দিয়েছিলেন লোকসভা।
মমতা ও সুমিত্রার দাবি জাতীয় রাজনীতি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল মহিলা বিল (Mamata Banerjee on Women Reservation Bill)। ফলে এক প্রকার চাপে পড়ে সে বছর ২০ জুলাই তৎকালীন আইন মন্ত্রী এম থাম্বি দুরাই সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি বিলটি পেশ করার আগে লালু প্রসাদের দলের সাংসদ সুরেন্দ্র প্রকাশ যাদব বিলটি তাঁর হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরজেডি সাংসদ অজিত মেটা। লালু-মুলায়ম এই দুই সাংসদকে বাধা দেননি। বরং মনে করা হয়, তাঁদের উস্কানিতেই বিল ছেঁড়া হয়েছিল। তা ছাড়া মহিলা সংরক্ষণ বিলটির বিরোধিতা করেছিলেন বিজেপির ওবিসি নেতারাও।
বাদল অধিবেশনে বিলটি পেশ করা যায়নি। কিন্তু ওই বছরই ডিসেম্বর মাসে মহিলা সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পেশ করার ফের চেষ্টা হয়। আগের অধিবেশনের অভিজ্ঞতা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তুতই ছিলেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, এবারও বিল পেশ করতে সমাজবাদী পার্টি বা আরজেডি-র সাংসদরা বাধা দিতে পারেন। সেদিন লোকসভায় বিলটি পেশ করার সময়ে বিরোধী বেঞ্চ থেকে ছুটে স্পিকারের চেয়ারের সামনে আসার চেষ্টা করেন সমাজবাদী পার্টি সাংসদ দারোগা প্রসাদ সরোজ। কিন্তু স্পিকারের আসনের কাছে পৌঁছনোর আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কলার চেপে ধরেন। যাতে স্পিকারের চেয়ারের দিকে তিনি যেতে না পারেন বা বিল ছিঁড়তে না পারেন।

এই ঘটনা নিয়ে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়ে যায় লোকসভায়। ফলে সারাদিনের জন্য অধিবেশন মুলতবি করে দিতে হয়। সংসদের বাইরে মমতা ও দারোগা প্রসাদ একে অপরের উপর দোষারোপ করেন। মমতা অভিযোগ করেন, দারোগা প্রসাদ তাঁকে লাথি মেরেছেন। দারোগার অভিযোগ ছিল, মমতা তাঁর কলার চেপে ধরে ঘুষি মেরেছেন।
সে সময়ে লোকসভার স্পিকার ছিলেন বালাযোগী। শুধু মমতা নন, মহিলা বিল যে সেদিন পেশ করতে বাধা দেওয়া হতে পারে সেই আশঙ্কা অন্য মহিলা সাংসদদেরও ছিল। তাঁরা সকলে মিলেই সপা, আরজেডি সাংসদদের ঠেকাতে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে সক্রিয় ভূমিকা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আরও পড়ুন: মহিলা সংরক্ষণের প্রথম বীজ পুঁতেছিলেন রাজীব, সার জল দিয়েছিলেন নরসিংহ রাও
এই ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ পদ খারিজ করার জন্য স্পিকার বালাযোগীর কাছে আবেদন জানান সপা সাংসদরা। তাঁদের এও দাবি ছিল, হরিজন আইনে মমতার (Mamata Banerjee on Women Reservation Bill) বিরুদ্ধে মামলা হোক। কারণ দারোগা প্রসাদ সরোজ ছিলেন হরিজন। আবার মমতাও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মহিলা বিল নিয়ে আলোচনা না হলে সংসদ অচল করে দেবেন।
তবে বাজপেয়ী জমানায় শেষমেশ মহিলা বিল লোকসভায় পাশ করানো যায়নি। কারণ, এ ব্যাপারে সর্বসম্মতি গড়ে তুলতে পারেননি অটলবিহারী বাজপেয়ী।