
শেষ আপডেট: 20 February 2023 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকার জ্বর হওয়ায় ডাকা হল ওঝা, চলল ঝাড়ফুঁক। এর পরে সালিশি সভা ডেকে ডাইনি অপবাদ (witchcraft) চাপানো হল প্রতিবেশী এক মহিলার উপর। তাঁর 'অপরাধ', তিনি সন্তানহারা মা! এমনই কারণ দেখিয়ে মারধর করে গ্রামছাড়া করা হল ওই মহিলা ও তাঁর প্রৌঢ় স্বামীকে। চারদিন রেল স্টেশনে কাটিয়ে অবশেষে তাঁদের ঠাঁই হল এক স্কুল শিক্ষকের বাড়িতে। হুগলির দাদপুর চকের কৃষ্ণপুর গ্রামের এই ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সনাতন ও পূর্ণিমা দুর্লভ বহু বছর ধরে কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা। গত সপ্তাহে হঠাৎই তাঁদেরই প্রতিবেশী এক পরিবারে জ্বর হয় ১৩ বছরের কিশোরী টুম্পা দুর্লভের। অভিযোগ, টুম্পার বাবা সনৎ দুর্লভ মেয়ের জ্বর সারাতে ওঝা ডাকেন। ঝাড়ফুঁক করে সেই ওঝা নিদান দেয়, ওই নাবালিকাকে ডাইনিতে ধরেছে। সেই ডাইনি নাকি প্রতিবেশী পূর্ণিমা, যাঁর এক ছেলে মারা গেছে কয়েক বছর আগে। স্বামী সনাতনের সঙ্গেই থাকেন তিনি।
ওঝার নিদান শুনেই গ্রামের কিছু বাসিন্দা সালিশি সভা ডাকেন। সেখানেই দম্পতিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। প্রতিবাদ করায় মারধরও করা হয় তাঁদের। খবর পেয়ে দাদপুর থানার পুলিশ গিয়ে দম্পতিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা গেছে, পুলিশ তাঁদের কিছুদিন কোনও এক আত্মীয়র বাড়িতে থাকার পরামর্শ দেয়। কিন্তু দম্পতির দাবি, আত্মীয়র বাড়ি গেলে সেখানেও ভয় দেখানো হয়। এরপর ওই দম্পতি চুঁচুড়া স্টেশনে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে চা বিস্কুট খেয়েই চার দিন কাটে তাঁদের। এদিকে গ্রামের জমিতে তাঁদের চাষের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তাই বাড়ি ফিরতে চেয়ে দাদপুর পঞ্চায়েত ও থানায় আবেদন জানান দম্পতি। তবে গ্রামে ফিরলে তাঁদের উপর আবার আক্রমণ হতে পারে ভেবে, ঝুঁকি নিতে চায়নি প্রশাসন।
এই ঘটনায় দাদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান জয়া মির্দা বলেন, পোলবা-দাদপুর বিডিওকে জানানো হয়েছে এই ঘটনার কথা। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রৌঢ় দম্পতির বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।
এই পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার থেকে দাদপুরের শিক্ষক সফিউল ইসলামের বাড়িতে রয়েছেন ওই দম্পতি। সফিউল ইসলাম বলেন, এখনও গ্রামে কুসংস্কার রয়েছে। তাই দম্পতিকে জোর করে গ্রামে ফিরিয়ে দিলেই হবে না।গ্রামবাসীদের মন থেকে ডাইনির কুসংস্কার দূর করতে হবে। এর জন্য বিজ্ঞান মঞ্চকে নিয়ে প্রশাসনকে কাজ করতে হবে। সেই সঙ্গে এই ধরনের ওঝা-গুণিনদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।
জরায়ুর দুটি ভাগে দুটি শিশু, জটিল অপারেশনে পৃথিবীর আলো দেখালেন শান্তিপুর হাসপাতালের ডাক্তারবাবু