Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

দশেরার আশীর্বাদ নিতে গিয়ে কফিন বন্দি হয়ে ফিরলেন স্বামী-স্ত্রী ও মেয়ে, পাহাড়ে শোক

শিলিগুড়ির সালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অনুজ প্রধান, তাঁর স্ত্রী অনিতা প্রধান এবং ১৯ বছরের মেয়ে স্নেহা প্রধান উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

দশেরার আশীর্বাদ নিতে গিয়ে কফিন বন্দি হয়ে ফিরলেন স্বামী-স্ত্রী ও মেয়ে, পাহাড়ে শোক

ফাইল ছবি

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 6 October 2025 21:09

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশেরার (Dusshera) জন্য আশীর্বাদ নিতে বেরিয়েছিল এক পরিবার। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের সঙ্গে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। উত্তরবঙ্গের ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ে (North Bengal Floods) প্রাণ হারাল পরিবারের সকলে।

শিলিগুড়ির (Siliguri) সালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অনুজ প্রধান, তাঁর স্ত্রী অনিতা প্রধান এবং ১৯ বছরের মেয়ে স্নেহা প্রধান উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, দশেরার দিন অনুজ প্রধান পরিবার-সহ ফোকিয়াবুং এলাকায় আত্মীয়ের বাড়ি আশীর্বাদ নিতে গেছিলেন। সন্ধেয় সেখানেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। কিন্তু গভীর রাতে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি (Heavy Rainfall)। একের পর এক স্থানে ধস নামে পাহাড়জুড়ে। ধসে ভেঙে পড়ে একাধিক বাড়ি, যার মধ্যে ছিল তাঁদের আত্মীয়ের বাড়িটিও। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের।

পরদিন উদ্ধারকারীরা তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে শিলিগুড়িতে পাঠায়। সোমবার সালবাড়িতে সম্পন্ন হয় মা, বাবা ও মেয়ের শেষকৃত্য। গোটা এলাকা তখন নিস্তব্ধ। শোকে ভারী হয়ে ওঠে সালবাড়ির আকাশ।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অনুজ ও অনিতা প্রধানের দুটি সন্তান ছিল - এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে স্নেহা বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন, আর ছেলে কাজের সূত্রে দুবাইয়ে ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় এক নিমেষে গোটা পরিবার হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

দুর্গাপুজোর আনন্দের শেষে, বিসর্জনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরবঙ্গে নামে প্রবল বৃষ্টি ও ধস। ফোকিয়াবুং, দুধিয়া, মিরিক থেকে দার্জিলিং - যেখানে একসময় উৎসবের হাসি ছিল, সেখানে এখন কেবল নীরবতা আর কান্নার সুর।

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই ঘটনায় উত্তরবঙ্গজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। এক পরিবারের তিন সদস্যের অকাল মৃত্যু যেন পাহাড়ের বুক চিরে রেখে গেল এক শূন্যতা, যার ভার বহন করবে গোটা রাজ্য।

ইতিমধ্যে দুর্যোগের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দার্জিলিং (Dargeeling) সহ বাকি জেলা। আর আটকে থাকা পর্যটকদের (Tourist) মধ্যেও নতুন করে দেখা দিয়েছে বাড়ি ফেরার আশা। তবে আবার বৃষ্টি না হলে বা ধস না নামলেও তাদের বাড়ি ফেরা সহজ হবে না। কারণ বহু রাস্তা এখনও বন্ধ।  

শনিবার রাতের প্রবল বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক ও দুধিয়া, পাশাপাশি মানেভঞ্জন ও সুখিয়াপোখরির মতো ছোট জনপদগুলি। সোমবার আবহাওয়া (Weather) স্বাভাবিক হওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকরা পাহাড় থেকে নামতে শুরু করেছেন। তবে পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলির কারণে যাতায়াতে এখনও কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে।

বর্তমানে সমতলে নামার জন্য দুটি রাস্তা খোলা রয়েছে — হিল কার্ট রোড (Hill Cart Road), যা তিনধারিয়া হয়ে সুকনা ও সেখান থেকে শিলিগুড়িতে নেমে যাচ্ছে, এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড (Pankhabadi Road), যা তুলনামূলক কঠিন হলেও এখন ব্যবহারযোগ্য। কার্শিয়াং থেকে এই রাস্তা নেমে দুধিয়ার কাছে গাড়িধুরায় গিয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিজনবাড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের অনেককেই এই দুই রাস্তায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


```