সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক ও দুধিয়া, পাশাপাশি মানেভঞ্জন ও সুখিয়াপোখরির মতো ছোট জনপদগুলি। সোমবার আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকরা পাহাড় থেকে নামতে শুরু করেছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যা পরিস্থিতি (Flood Situation) এবং ধসে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ (North Bengal)। বিভিন্ন জেলা ক্ষতিগ্রস্ত এবং একে একে একাধিক মৃত্যুর খবরও আসছে। যদিও সোমবার নতুন করে বৃষ্টি হয়নি। তবে ফের বড় ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইতিমধ্যে দুর্যোগের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দার্জিলিং (Dargeeling) সহ বাকি জেলা। আর আটকে থাকা পর্যটকদের (Tourist) মধ্যেও নতুন করে দেখা দিয়েছে বাড়ি ফেরার আশা। তবে আবার বৃষ্টি না হলে বা ধস না নামলেও তাদের বাড়ি ফেরা সহজ হবে না। কারণ বহু রাস্তা এখনও বন্ধ।
শনিবার রাতের প্রবল বর্ষণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিরিক ও দুধিয়া, পাশাপাশি মানেভঞ্জন ও সুখিয়াপোখরির মতো ছোট জনপদগুলি। সোমবার আবহাওয়া (Weather) স্বাভাবিক হওয়ায় আটকে পড়া পর্যটকরা পাহাড় থেকে নামতে শুরু করেছেন। তবে পাহাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলির কারণে যাতায়াতে এখনও কিছুটা সমস্যা রয়ে গেছে।
বর্তমানে সমতলে নামার জন্য দুটি রাস্তা খোলা রয়েছে — হিল কার্ট রোড (Hill Cart Road), যা তিনধারিয়া হয়ে সুকনা ও সেখান থেকে শিলিগুড়িতে নেমে যাচ্ছে, এবং পাঙ্খাবাড়ি রোড (Pankhabadi Road), যা তুলনামূলক কঠিন হলেও এখন ব্যবহারযোগ্য। কার্শিয়াং থেকে এই রাস্তা নেমে দুধিয়ার কাছে গাড়িধুরায় গিয়ে শিলিগুড়ির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। বিজনবাড়িতে আটকে থাকা পর্যটকদের অনেককেই এই দুই রাস্তায় নামিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিকিমমুখী (Sikkim) ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক (National Highway) পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। সেখানে সীমিতভাবে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এটা পর্যটকদের কিছুটা হলেও সুরাহা দেবে। অপরদিকে, সিকিম থেকে কালিম্পং–লাভা–লোলেগাঁও হয়ে শিলিগুড়ির রাস্তা আপাতত খোলা রয়েছে। কিন্তু রোহিণী রোড রবিবার সাময়িকভাবে খোলা থাকলেও সোমবার থেকে আবার বন্ধ করা হয়েছে। দুধিয়ার কাছে সেতু ভেঙে যাওয়ায় মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন।
এই অবস্থায় আটকে থাকা মানুষদের জন্য চালু করা হয়েছে পুলিশের বিশেষ হেল্পলাইন। ফোনে যোগাযোগ করলে দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ ও সাহায্য। যাঁদের গাড়ি নেই, তাঁদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কমিউনিটি কিচেন চালু করা হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজের মাধ্যমে কোন রাস্তা খোলা, কোথায় ধস, তা নিয়মিতভাবে জানানো হচ্ছে।
সোমবারই উত্তরবঙ্গের নাগরাকাটায় পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপজ্জনক এলাকায় থাকা মানুষদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ — “শুনুন, প্রাণের চেয়ে বড় কিছু হয় না। বেঁচে থাকলে ঘরবাড়ি আবার হবে। কিন্তু প্রাণ গেলে, সেটা আর ফেরে না।" তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, এখনও যারা নিজেদের বাড়ি আগলে পড়ে আছেন, তাঁদের অবিলম্বে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনতে হবে। কোনও অবস্থাতেই যেন কেউ ঝুঁকি না নেন।