শিলিগুড়িতে সেপটিক ট্যাঙ্কে নেমে মৃত দুই, প্রথম জনকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু দ্বিতীয় যুবকের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্মীয়মান সেপটিক ট্যাঙ্ক হয়ে উঠল মরণফাঁদ। শিলিগুড়িতে একটি বাড়ির নির্মিয়মান সেপটিক ট্যাঙ্কে নামতে গিয়ে মৃত্যু হল দুই যুবকের। প্রথমে একজন নামতে গিয়ে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম অমিত বর্মন
শেষ আপডেট: 17 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্মীয়মান সেপটিক ট্যাঙ্ক হয়ে উঠল মরণফাঁদ। শিলিগুড়িতে একটি বাড়ির নির্মিয়মান সেপটিক ট্যাঙ্কে নামতে গিয়ে মৃত্যু হল দুই যুবকের। প্রথমে একজন নামতে গিয়ে পড়ে যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের নাম অমিত বর্মন ও দীপক রায়।
শিলিগুড়ি শহরের তিনবাত্তি এলাকার কাছেই এশিয়ান হাইওয়ে দুই-এর পাশে একটি বাড়িতে থাকত ওই দুই যুবক। সেই বাড়িরই একটি নির্মীয়মান সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে ঢালাইয়ের জন্য ব্যবহার হওয়া বাঁশ ও কাঠ খুলতে নেমেছিল দীপক রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিতরে নামার পরেই দীপক অচৈতন্য হয়ে যায়। সেটা দেখেই উদ্ধার করতে যায় অমিত বর্মন। কিন্তু ট্যাঙ্কে নামার পরে সেও অচৈতন্য হয়ে যায়। সেখানেই পর পর দু'জনের মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন
বাড়ির মালিক যতন সাহা ঘটনাটি জানতে পেরেই দড়ি নামিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্ভব হয়নি। এর পরে খবর পেয়ে দমকল ও পুলিশ এসে দু'জনের দেহ উদ্ধার করে। প্রথমে প্রাণ রয়েছে মনে করে দুই যুবককে উদ্ধারের পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা দু'জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে নামতেই মৃত্যু হল কেন? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি। তবে মনে করা হচ্ছে, কোনও বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল সেপটিক ট্যাঙ্কে। সেই গ্যাসের প্রভাব এবং অক্সিজেনের অভাবেই মৃত্যু হয় দুই যুবকের।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। সেখানে সেপটিক ট্যাঙ্ক তৈরির কাজও শেষের পথে। নির্মিয়মান ট্যাঙ্কের ভিতরে বাঁশ ও কাঠ লাগানো ছিল। এদিন সেগুলি খুলতেই দীপক ট্যাঙ্কের ভিতরে নামে। সেই সময়ে উপরে ট্যাঙ্কের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল অমিত। দীপককে ট্যাঙ্কের ভিতরে পড়ে যেতে দেখেই উদ্ধারের জন্য নামে অমিত। জানা গিয়েছে, অমিত নামার আগে চিৎকার করে বলে, দীপক পড়ে গেছে। সেটা শুনে বাড়ির উপর থেকে নামেন মালিক যতন সাহা। ততক্ষণে দু'জনেই প্রাণ হারিয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত দীপকের বাড়ি জলপাইগুড়ি জেলার তালমায় আর অমিতের বাড়ি শিলিগুড়ি লাগোয়া রানিডাঙা এলাকায়।