নকিবউদ্দীন গাজি, কাকদ্বীপ : রঙ মিস্ত্রির কাজ করেন মঙ্গল হালদার।দেনা মেটাতে পাড়ি দিয়েছিলেন মাঝ দরিয়ায়। মাছ আনতে পারলে কিছুটা সুখের মুখ দেখবেন। উল্টোরথে নতুন বউকে নিয়ে মেলায় ঘুরবেন। তিন মাস আগে বিয়ে করা মঙ্গলের বউ ঋতুপর্ণা এখন বাড়ি থেকে বারবার ছুটে ছুটে যাচ্ছেন নদীর ধারে। ১৬ জন নিখোঁজ মৎস্যজীবীর মধ্যে যে মঙ্গলও আছেন।
বিয়ে করবেন বলে নতুন বাড়ি করেছিলেন মঙ্গল। অ্যাসবেস্টাসের ছাউনি দেওয়া ইটের দু'কামরা ঘরে বৃদ্ধ বাবা মা আর স্ত্রী ঋতুপর্ণাকে নিয়ে সংসার । ১৫ হাজার টাকা দেনা হয় বিয়েতে। ঘর বাঁধতে আরও ১০ -১২ হাজার টাকা। ট্রলার মালিক প্রলয় দাসের কাছে দাদন নিয়েছিলেন। তাই জীবনকে বাজি রেখেই 'এফবি জয় কিষাণ' ট্রলারে মাঝ সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন মঙ্গল। পশ্চিম গঙ্গাধরপুরে মঙ্গলদের বাড়িতে এখন শুধুই উদ্বেগ।
এ দিকে বুধবার সকালেই ডালহৌসি দ্বীপের কাছে খোঁজ মেলে নিখোঁজ ট্রলার এফবি জয়কিষণের। তবে এই ট্রলারে থাকা নিখোঁজ ১০ মৎস্যজীবীর এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। জম্বু দ্বীপের কাছে খোঁজ মিলেছে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া আরও একটি ট্রলার এইবি অহল্যার। এই ট্রলারে থাকা ৬ মৎস্যজীবীরও এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। অপর ট্রলার এফবি শিবানীর খোঁজেও তল্লাশি জারি রয়েছে। তাই ঋতুপর্ণার মতোই উদ্বেগের প্রহর কাটাচ্ছে নদী পারের গ্রামগুলি।