
শেষ আপডেট: 23 August 2022 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকার অমানুষিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল এবার হাওড়ায়। লিলুয়ার (Liluah) ভট্টনগরে এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার (pregnant woman) পেটে লাথি মারল সেখানকার কয়েকজন দুষ্কৃতী। চারমাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁর সন্তানকে বাঁচানো যায়নি।
সূত্রের খবর, লিলুয়ার ভট্টনগর আমবাগান এলাকার বাসিন্দা রামকরণ রায় বাড়ির সামনে বৃষ্টির জলে ভেসে আসা জঞ্জাল পরিষ্কার করছিলেন। এই নিয়ে সেসময় তাঁর প্রতিবেশী লক্ষ্মী তালুকদারের সঙ্গে ঝামেলা হয়। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সেই অশান্তি সাময়িকভাবে মিটলেও রাতের দিকে ১০-১৫ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী রামকরণবাবুর বাড়িতে চড়াও হয় বলে অভিযোগ। বাড়িতে ঢুকেই দুষ্কৃতীরা তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ঊর্বশী রায়কে বেধড়ক মারধর করে পেট লক্ষ্য করে পরপর লাথি মারতে থকে। বারংবার আঘাতে নষ্ট হয়ে যায় সন্তান।
আক্রান্তের পরিবারের অভিযোগ, এই হামলায় নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতা কেশব হালদার। আহত ঊর্বশী রায়কে প্রথমে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসার পর বাড়ি নিয়ে আসা হয় তাঁকে। আপাতত নিজের বাড়িতেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার রাতে পুলিশ এই ঘটনায় সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রেম তালুকদার এবং তাঁর ছেলে প্রকাশ তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মঙ্গলবার হাওড়া আদালতে তোলা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক ঝামেলার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এদিকে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেশব হালদার তাঁর বিরুদ্ধে ওটা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘুম পাড়ানি চোর! ধূপগুড়িতে স্প্রে করে লুঠ করল সর্বস্ব
প্রসঙ্গত, গত রবিবার প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদের জেরে নারকেলডাঙায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার বাড়িতে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি ওই মহিলার শ্বশুর ও স্বামীকে মারধর করা হয়। এরপর লাথি মারা হয় মহিলার পেটে। ঘটনার বীভৎসতায় শিউরে উঠেছিল শহর। কিন্তু এই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি যে এবার হাওড়াতেও ঘটবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউই।
উল্লেখ্য, নারকেলডাঙার ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল রাজ্যের শাসকদলের। এবার হাওড়াতেও অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলার পেটে লাথি মারার ঘটনায় নাম জড়াল তৃণমূলেরই। পুলিশ যতই বলুক এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই, রাজনীতি কিন্তু ঘটনাটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে গিয়েছে।