টোল থেকে বাঁচতে পুলিশ-তৃণমূলকে তোলা, জানতে পেরেই কড়া মন্ত্রী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: টোল দিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার চেয়ে তোলা দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা ধরলে বেশ কিছু টাকা বেঁচে যায়। বিশেষ করে ওভারলোডেড গাড়িগুলি টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যায়। এই ধরনের গাড়িগুলি তাই সেই পথই ধরেছিল। অভিযোগ, এইসব গাড়ির থেকে
শেষ আপডেট: 31 January 2020 07:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: টোল দিয়ে জাতীয় সড়ক ধরে যাওয়ার চেয়ে তোলা দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা ধরলে বেশ কিছু টাকা বেঁচে যায়। বিশেষ করে ওভারলোডেড গাড়িগুলি টাকার বিনিময়ে পার পেয়ে যায়। এই ধরনের গাড়িগুলি তাই সেই পথই ধরেছিল। অভিযোগ, এইসব গাড়ির থেকে টাকা তুলছিল পুলিশ ও তৃণমূলের একাংশ। লরির চাপে গ্রামীণ সড়ক এখন পুরো বেহাল হয়ে পড়েছে। একথা জানতে পেরে নিজের বিশ্বস্ত লোকের মাধ্যমে অভিযোগের কথা যাচাই করেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘটনা যে সত্যি সে কথা জানতে পেরেই কড়া পদক্ষেপ করলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানতে পারেন, পুলিশ ও শাসকদলের লোকজনকে তোলা দিয়ে ওভারলোডেড লরিগুলি বেআইনি ভাবে টোল এড়াচ্ছে। ছয় নম্বর জাতীয় সড়কের উপর ঝাড়গ্রাম ব্লকের নেতুরায় রয়েছে ওভারলোডিং গাড়ি চেকিং করার টোল। টোল ফাঁকি দিতে রাত হলেই ওভারলোডেড পণ্যবাহী গাড়িগুলি জাতীয় সড়ক ছেড়ে জামবনি থানার চিঁচিঁড়ার কাছে গ্রামীণ রাস্তায় ঢুকে পড়ছে। গাড়িগুলি ভাতুর চিল্কিগড় হয়ে জামবনি থানার পাশ দিয়ে প্রবেশ করছে ঝাড়গ্রাম থানা এলাকায়। তারপর একলব্য আদর্শ বিদ্যালয় বা ঝাড়গ্রাম রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সামনের রাস্তা দিয়ে পণ্যবাহী গাড়িগুলি লোধাশুলির কাছে আবার জাতীয় সড়কে উঠছে। অভিযোগ, এই দু’টি থানা এলাকার দিয়ে যখন ওই পণ্যবাহী গাড়িগুলি যায় তখন জামবনি থানা ও ঝাড়গ্রাম থানা এলাকায় পুলিশ ও শাসকদলের নেতাদের একাংশ এইসব গাড়ি থেকে ‘তোলা’ নিয়ে সেগুলিকে পাস করিয়ে দেয়।
টোল ফাঁকি দিতে পণ্যবাহী গাড়িগুলি যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে, গাড়ির চাপে সেই রাস্তা একেবারে ভেঙে গেছে। এই রাস্তায় ছোট-বড় পথ দুর্ঘটনা লেগেই আছে। ভাঙা রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মোটর সাইকেল, ভ্যান প্রভৃতি চালানো দিনে দিনে কঠিন হয়ে পড়ছে। তাতে এলাকার লোকজন তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছেন। ভিতরে ভিতরে তাঁরা রাগে ফুঁসছিলেন।
[caption id="attachment_182331" align="aligncenter" width="1280"]

লরির চাপে এমনই দশা রাস্তার[/caption]
পুলিশ ও শাসকদলের মদতে এই কাজ চলছে বলে কেউই আর সাহস করে প্রতিবাদ করে উঠতে পারেননি। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন সরাসরি অভিযোগ জানান পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।
অভিযোগ পাওয়ার পরে নিজের বিশ্বস্ত লোকজনকে দিয়ে খোঁজ নিতে শুরু করেন মন্ত্রী। অভিযোগ যে সত্যি সে কথা তিনি জানতে পারেন। তিনি জানতে পারেন, একটি-দু’টি নয়, রাতের অন্ধকারে কয়েকশো লরি এই ভাবে যাতায়াত করে টোলের বদলে তোলা দিয়ে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার পরে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে নিজের কড়া অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন পরিবহণমন্ত্রী। তারপরেই শুরু হয় রাতভর ধড়পাকাড়। আটক করা হয় মোট আটটি পণ্যবাহী ওভারলোডেড গাড়ি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি গাড়িকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনটি গাড়ি এখনও আরটিও দফতরের অধীনে রয়েছে।
একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে বৃহস্পতিবার সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যারতিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনাটি সত্য। এই ঘটনায় পুলিশ ও ভূমি দফতরের গাফিলতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।