দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: বাচ্চাদের জন্য স্কুল থেকে পাঠ্যবই সংগ্রহ করতে যাওয়ার পথে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানের হাতে নিগ্রহের শিকার হলেন দুই মহিলা গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে করণদিঘি থানার কাদেরগঞ্জ সীমান্তে। বিএসএফের হাতে আক্রান্ত দুই মহিলা বৃহস্পতিবার রাতেই গোটা ঘটনা জানিয়ে করনদিঘি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় বিধায়ক মনোদেব সিংহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন।
করনদিঘি থানার বররা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা পুলিশের কাছে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টা নাগাদ তিনি ও তার আরেক পরিচিত মহিলা স্থানীয় পৌটি হাইস্কুল থেকে তাদের বাচ্চাদের পাঠ্যবই আনতে ইন্দো-বাংলা সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় ভুখণ্ডের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন। দিনেরবেলা যাতায়াতের জন্য সাধারণত তারা এই রাস্তাই ব্যবহার করেন। পথে কাদেরগছ বর্ডার আউট পোস্টের ১৪৬ নম্বর ব্যাটেলিয়নের বিএসএফের এক জওয়ান তাঁদের রাস্তা আটকায়। ওই জওয়ান তাঁদের এই রাস্তা ব্যবহার করতে নিষেধ করে। তারা হঠাৎ এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ করতেই ওই জওয়ান ছুটে এসে তাদের এলোপাতাড়ি চড়, ঘুষি মারার পাশাপাশি অকথ্য গালিগালাজ করে বলে অভিযোগ।
ঘটনার জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনাস্থলে হাজির হয় গ্রামবাসীরা৷ এরপরে মহিলারা কোনওমতে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের আলোচনার কথা বলে দীর্ঘ সময় সেখানে বসিয়ে রেখে দেয় বিএসএফ জওয়ানরা ।
রাঙ্গা সিংহ নামে ওই মহিলা বলেন, ‘‘মারের চোটে আমার কানে অসহ্য ব্যাথা শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনায় আমরা চরম আতঙ্কে রয়েছি।’’ তার স্বামী নেপালী সিংহ বলেন, ‘‘আমরা এলাকার মানুষ এই রাস্তাই ব্যবহার করে থাকি। এর আগেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে মিটমাট করে নেওয়ারর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আমরা এর বিচার চাই।’’
বি এস এফের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলার পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ‘‘বি এস এফের হাতে নিগৃহীত হওয়া নিয়ে থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা অভিযোগ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করেছি’’
মাসখানেক আগেই ওই ক্যাম্প লাগোয়া এলাকায় কৃষকদের জমি ব্যবহার করে বিএসএফ নালা তৈরি করতে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেই নিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে বচসা বাঁধে বিএসএফ এর। ওই ঘটনার ছবি মোবাইলে তোলার চেষ্টা করায় এক ছাত্রকে মারধর করে বিএসএফ তার মোবাইল কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ উঠেছিল।