দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: কলকাতা ও হাওড়ার দু’টি হাটে নিত্য আসে কাপড়। বিক্রির জন্য। এখন সেখানকার গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার তাঁতের শাড়ি। বিক্রি নেই। কিন্তু ফিরিয়েও আনতে পারছেন না নিজেদের ঘরে। অভাব চলছিলই। এবার উৎকণ্ঠা গ্রাস করেছে নদিয়ার কয়েকশো তাঁতি ও তাঁত বস্ত্র ব্যবসায়ী মানুষজনকে।
তাঁতের কাপড়ের শহর বলতেই যার নাম উঠে আসে শান্তিপুর, ফুলিয়া, নবদ্বীপ এবং সমুদ্রগড়ের। এ রাজ্য তো বটেই দেশ-বিদেশের মানুষের কাছেও পরিচিত নদিয়া জেলার এই তাঁতের পাড়া। বছরের পর বছর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের রুটিরুজি চলে তাঁত শিল্পকে আঁকড়ে ধরে। পুজো আসার ঠিক আগ দিয়ে ঘরে ঘরে চলে নতুন নকশা উদ্ভাবন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন ব্যবসায়ীরা। কাপড় কিনতে আসেন ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরাও। এটাই দস্তুর। এবার সবই যেন স্তব্ধ।
রাজ্য ও ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা যেমন কাপড় নিয়ে যান এখান থেকে এসে, তেমনই এখানকার তাঁতি থেকে মহাজন সবাই তাঁদের উৎপাদিত কাপড় বিক্রি করতে যান হাটে। মূলতঃ হাওড়ার মঙ্গলা হাট ও কলকাতার হরিষার হাটে। করোনা সংক্রমণের জন্য উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আর বাইরে কাপড় বিক্রি করতে যেতে পারছেন না কেউই। উপরন্তু হাট বন্ধ থাকায় গোডাউনে পড়ে নষ্ট হচ্ছে কাপড়।
কলকাতার হরিষার হাট ও হাওড়ার মঙ্গলা হাটে সারা রাজ্য তো বটেই বাইরের বহু ক্রেতাও মাল কিনতে আসেন। এ রাজ্যের তাঁতিরা এখানকার গোডাউনগুলিতে আগেভাগেই মজুত করে রেখে দেন তাঁদের বোনা কাপড়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখানকার গোডাউনগুলিতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে এ রাজ্যের তাঁতিদের বোনা কয়েক কোটি টাকার শাড়ি। এমনটাই জানাচ্ছেন শান্তিপুর তাঁত ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তারক দাস। তিনি জানান, কন্টেইনমেন্ট হওয়ায় যাতায়াতে বাধানিষেধ রয়েছে। তাই সেখান থেকে তাঁরা মাল বের করতে পারছেন না। যারফলে বেশ কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার ব্যবসায়ী সমিতির সমস্ত সদস্য। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণও করেছেন তাঁরা। কিন্তু ফল হয়নি।
শান্তিপুরের তাঁতি মনোজ হালদার বলেন, বাজার ধরার জন্য হাওড়ার হাটে প্রচুর মাল আগেভাগেই পাঠানো ছিল। হঠাৎ করেই লকডাউন হয়ে যাওয়ার ফলে সে সমস্ত মালপত্র আর বের করতে পারছি না। একদিকে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাজারে যেমন বিক্রি নেই, তেমনি কলকাতায় পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বহু শাড়ি।’’
শান্তিপুর তাঁত ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তারক দাস, পশ্চিমবঙ্গ তৈরি পোশাক শিল্পেরও সদস্য। তিনি বলেন, লকডাউনের মধ্যেই ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের সঙ্গে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গুদামে পড়ে থাকা মালপত্র তাঁরা বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু ফের কড়াকড়ি শুরু হওয়ায় সেখান থেকে আর মালপত্র বের করা যাচ্ছে না। অবিলম্বে এই সমস্ত শাড়ি বের না করতে পারলে মুখ থুবড়ে পড়বে তাঁতের কাপড়ের ব্যবসা।’’
শান্তিপুর পুরসভার প্রশাসক অজয় দে বলেন, ‘‘তাঁতিদের অবস্থা খুবই সঙ্গিন। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই রাজ্য সরকারকে এ ব্যাপারে নজর দেওয়ার অনুরোধ রাখছি।’’