দ্য ওয়াল ব্যুরো,পূর্ব বর্ধমান: কোভিড পরিস্থিতিতে দীর্ঘ লকডাউনে জেরে ধাক্কা খেয়েছে রক্তদান শিবির আয়োজন। দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় রাজ্যে রক্তদান শিবির করা যায়নি। আনলক পর্ব শুরু হলেও সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে গিয়ে শিবির আয়োজন স্বতঃস্ফূর্ত হচ্ছে না। ফলে রক্তের ভাঁড়ার ক্রমশ শূন্য হচ্ছে। দেশজুড়ে আনলক পর্ব শুরু হতেই সংক্রমণের গতিও ঊর্ধ্বমুখী। রাজ্যেও প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করে সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাই বহু জায়গায় আয়োজন করার পরেও বাতিল করে দিতে হচ্ছে রক্তদান শিবির। সব মিলিয়ে ব্ল্যাডব্যাঙ্কগুলিতে কমছে রক্তের জোগান।
আগামীদিনে লকডাউন বাড়লে হয়তো এই টান আরও বাড়বে। তাই রক্ত অপচয় বন্ধে উদ্যোগ নিল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সবাইকে রক্ত জমিয়ে না রাখার জন্য আবেদন জানালেন তাঁরা। বর্ধমান হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘একেক সময় জীবন বাঁচাতে এক বোতল রক্তের জন্যেও হাহাকার পড়ে যায়। অথচ এই কঠিন সময়ে রক্তের জোগান কমছে সমস্ত ব্লাডব্যাঙ্কেই। তাই হাসপাতালের নিজস্ব হোক বা নার্সিংহোম, প্রয়োজন হলে রক্ত চান, কিন্তু রক্ত জমিয়ে রাখবেন না, এই অনুরোধ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যে কোনওভাবে আমাদের রক্তের অপচয় আটকাতে হবে। তাই সবার কাছে এমন আবেদন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি জানান, গত বছর জুন ও জুলাই মাসে ৪২টি শিবির থেকে ৪,৩৯৪ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়। এই বছর সেখানে জুন-জুলাই দু’মাসে ৪৪টি ক্যাম্প থেকে ৩,৬৮৭ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছর এই দু'মাসে যেখানে ৪৩৯৫ ইউনিট রক্ত বিলি হয় সেখানে এবার রক্ত বিলি করা হয়েছে ৩৭৭০ ইউনিট। অর্থাৎ গত বছর এই দু'মাসে রক্ত সংগ্রহ এবং সরবরাহ ছিল সমান সমান। সেখানে এবার সংগ্রহ থেকে সরবরাহ হয়েছে ৮০ ইউনিটের বেশি।
জেলায় সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে বর্ধমান শহরে ফের সাতদিনের লকডাউন হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকাতেও লকডাউন করা হয়। ফলে সাতদিন বেশ কয়েকটি রক্তদান শিবির বাতিল হয়। আগামীদিনে লকডাউন বাড়লে শিবির আরও কমবে। সেক্ষেত্রে সমস্যা আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
রক্তের সংকট থাকায় ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সপ্তাহ তিনেক আগেই হাসপাতালের তরফে চিঠি দিয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বিষয়টি জানানো হয়েছে।