দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকালবেলা খুলে গেল আসানসোলের কল্যাণেশ্বরী মন্দির। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলছে দেবী আরাধনা। ভক্তদের বলা হচ্ছে মুখে মাস্ক পরে পুজো দিতে আসতে।
কল্যানেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত জয় মুখার্জী জানান, লকডাউনের জন্য সরকারি আদেশ অনুসারে গত দু’মাস মন্দির বন্ধ ছিল। কিন্তু রোজ নিত্যপুজো হত। আজ সরকারের আদেশ অনুসারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মন্দির খোলা হল।
মন্দির খোলায় স্বস্তি পেলেন পার্শ্ববর্তী এলাকার দোকান মালিকরা। স্থানীয় ব্যবসায়ী পরদেশী মালি বলেন, ‘‘লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই মন্দির বন্ধ। তাই আমাদের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল। আয় না থাকায় খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছি আজ থেকে মন্দির খোলায় আমার খুব খুশি।’’
রাজ্যের নির্দেশ থাকলেও কিন্তু হুগলির তারকেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল আজ থেকে খুলবে না মন্দির। তারকেশ্বর মঠের মহন্ত মহারাজ জানিয়ে দেন, মন্দির খোলার ব্যাপারে মন্দির কর্তৃপক্ষ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মন্দির খোলা হবে না। আগামী দিনে মন্দির খোলা হলেও আরও কিছু বিধি নিষেধ লাগু হবে। আজ থেকে মন্দির না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেলুড় মঠ, দক্ষিণেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষও।
সরকার ছাড় দিলেও আজ থেকে খোলেনি তারাপীঠ মন্দিরও। মা তারার দর্শন পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে ভক্তদের। ভক্তদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছিলেন মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে মন্দিরে ঢোকার মুখে বসানো হবে স্যানিটাইজার মেশিন। তাছাড়া মন্দির চত্বর যাতে সবসময় স্যানিটাইজ করা হয় তার ব্যবস্থাও নিতে হবে। তারজন্য সময় লাগবে। তাই ১৫ জুন পর্যন্ত তারাপীঠ মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। তারপর পরিস্থিতি ও স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি নির্দেশ মেনে ব্যান্ডেল চার্চ খোলার সিদ্ধান্ত হলেও আজ থেকে নয়, চার্চ খুলবে ৮ জুন থেকে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর ব্যান্ডেল চার্চে মেরামতির কাজ শুরু হয়। আর্চ বিশপ টমাস ডি’সুজা ব্যান্ডেল চার্চ খোলার জন্য অনুমতি দেন। চার্চের ফাদার ফ্রান্সিস জানান, শুধুমাত্র প্রার্থনার জন্য খোলা হবে গির্জা। এক সঙ্গে দশ জনের বেশি প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য চার্চে প্রবেশ আপাতত নিষেধ। পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই বিষয়টি জানানো হবে।
সাহাগঞ্জের গরিব আলম বাগ মসজিদ অবশ্য খুলে গেল আজ থেকেই। তবে নোটিস দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে নমাজ পাঠের নিয়মাবলী। মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, অজু করার সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, নামাজ শেষে হাত না মেলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে। এতদিন বাড়িতেই নমাজ পাঠ চলছিল। সরকারি নির্দেশে আবার মসজিদে নমাজ পড়া যাবে। তবে একসঙ্গে দশজনের বেশি নয়।