দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ব্লাডব্যাঙ্কে রক্তের আকাল। তা জোগাড় করে দেওয়ার নামে দালালচক্রের সক্রিয়তা তুঙ্গে। তাই প্রয়োজনের সময় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষজনকে চূড়ান্ত নাকাল হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের আশা শিবিরের সংখ্যা বাড়লে এ সঙ্কট কেটে যাবে। কিন্তু কবে তেমন দিন আসবে সেটাই প্রশ্ন সবার।
করোনা পরিস্থিতিতে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি শিবির হলেও সেখানে রক্তদাতার সংখ্যা তুলনায় বেশ কম। গোটা রাজ্যের হাসপাতালগুলির মতোই তার প্রভাব পড়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে। কার্ডে রক্ত দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই গ্রুপের ডোনার না হলে রক্ত দেওয়া হচ্ছে না। ফলে গভীর সমস্যায় রোগী ও তাঁদের পরিজনরা। বিশেষ করে বাইরে থেকে আসা রোগীর পরিজনরা রক্ত জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অভিযোগ, এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই সক্রিয় হয়েছে হাসপাতালে দালাল চক্র। বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দালালরা। রক্তের আকাল চলায় মোটা টাকা দিয়ে রক্ত কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীর পরিজনরা। হাসপাতালে কী পরিমাণ রক্ত মজুত রয়েছে তা জানা যাচ্ছে না। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ব্যাঙ্কের ডিসপ্লে বোর্ড খারাপ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কত রক্ত মজুত আছে, তা জানতে গেলে জুটছে দুর্ব্যবহার। এক রোগীর আত্মীয় বলেন, ‘‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও রক্ত দরকার হলে দাতা আনতে বলা হচ্ছে। এতে বাইরে থেকে ভর্তি হওয়া রোগীর পরিজনদের সমস্যা হচ্ছে। দালালের মাধ্যমে দাতা জোগাড় করে রক্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।’’
বেশি সংখ্যায় রক্তদান শিবির আয়োজিত না হলে সমস্যা মিটবে না বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে, দালাল চক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ মানতে চায়নি হাসপাতাল। ব্লাডব্যাঙ্কের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘করোনার কারণে জেলায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গিয়েছে। সে কারণে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের জোগান অনেকটাই কম। তাই সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেজন্য দাতা আনলে রক্ত দেওয়া হচ্ছে। কার্ডে রক্ত দেওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।’’
এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ছাড়াও শহরের বিভিন্ন নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন রোগীদেরও এই ব্লাডব্যাঙ্ক থেকে রক্ত দেওয়া হয়। জোগান কম হওয়ায় নার্সিংহোমগুলিকে কেবলমাত্র চাহিদা অনুযায়ী রক্তের রিক্যুইজিশন পাঠাতে বলা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের আগে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে কার্ডে রক্ত দেওয়া হত। কিন্তু, এখন একই গ্রুপের ডোনার না আনা হলে রক্ত দেওয়া হচ্ছে না। ব্লাড ব্যাংক সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের অগস্ট মাসে জেলায় মাত্র ১৮টি রক্তদান শিবির আয়োজিত হয়েছে। শিবিরগুলি থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ ইউনিট রক্ত মিলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১৭টি শিবির হয়েছে। শিবিরগুলি থেকে গড়ে একই পরিমাণ রক্ত মিলেছে। অন্যান্য বছর এই শিবিরগুলি থেকে গড়ে ১০০ থেকে ১৫০ ইউনিট রক্ত মেলে।
হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘করোনা পরিস্থিতিতে রক্তদান শিবিরের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। শিবির থেকে প্রত্যাশিত ইউনিট রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। তার ফলে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের আকাল দেখা দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য কিছু পরিমাণ রক্ত সবসময় মজুত রাখতে হয়। শিবিরের সংখ্যা বাড়লে সমস্যা কেটে যাবে।’’