দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সাকুল্যে তিনটি এলইডি ল্যাম্প জ্বলে ঘরে। সেই আলোর দাম চোকাতে মাথায় হাত পোলবার দোনারপাড়ায় সুরাই মুর্মুর।
রাজমিস্ত্রির কাজ করে কাঁচা ঘরটা কোনওমতে পাকা করেছিল ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে ঘরের কাজ আর শেষ হয়নি। পরের জমিতে কাজ করে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন সুরাই ও সনিয়া মুর্মু। এখন নুন আনতে পান্তা ফুরোনো সংসারে কোনওমতে টিকে রয়েছেন দু’জনে।
বছর দশেক আগে সরকারি প্রকল্প লোকদীপের বিদ্যুৎ পৌঁছেছিল গ্রামে। বিদ্যুৎ এসেছিল সুরাই মূর্মুর ঘরেও। কিন্তু বিদ্যুতের বিল জমা দিতে না পারায় লাইন কেটে দেয় বিদ্যুৎ দফতর।
অনেক কষ্টে টাকা জমা দিয়ে বছর পাঁচেক আগে ফের লাইন চালু করেন ওই প্রৌঢ়ের বউমা। লোকদীপের মিটারকেই সক্রিয় করে দেয় বিদ্যুৎ দফতর। তাঁদের অভিযোগ, এরপর থেকেই মিটার রিডিং নেওয়া ও বিল আসা সবই অনিয়মিত হয়ে পরে। কখনও চার হাজার কখনও বারো হাজার টাকা বিল আসতে থাকে। খেয়ে না খেয়ে সেই বিল মেটাতে থাকেন সুরাই মুর্মু। চলতি মাসে তাঁর বাড়িতে বিদ্যুতের বিল এসেছে এক লক্ষ টাকা।
একসঙ্গে এক লক্ষ টাকা কখনও চোখেই দেখেননি। এ দিকে বিদ্যুৎ দফতরও জানিয়ে দিয়েছে টাকা না দিলে কেটে দেওয়া হবে লাইন। এখন ছেলের বউও আর থাকে না তাঁদের সঙ্গে। তাই আলোর আশা দেখছেন না দুজনের কেউই।
ঘরে তিনটি মাত্র এলইডি লাইট জ্বললেও, তেরো দিনে তিন হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পুড়েছে বলে দেখাচ্ছে বিদ্যুতের মিটার। তা নিয়ে কোনও হেলদোল নেই বিদ্যুৎ দফতরের।
মিটারের ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণে এত বেশি বিল আসছে, জানতে বারবার প্রৌঢ় সুরাই মূর্মু ছুটে যান বিদ্যুৎ দফতরের অফিসে। অবশেষে পোলবা বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশন ম্যানেজার সুবীর রায় বলেন, “সমস্যা জানিয়ে দরখাস্ত দিতে বলেছি, টেকনিক্যাল লোক পাঠিয়ে মিটার চেক করা হবে কোনও ত্রুটি আছে কি না দেখতে। তারপর বিল নিয়ে রিজিওনাল অফিসে পাঠানো হবে।”
এতসব বুঝতে পারছেন না সুরাই মুর্মু ও তাঁর স্ত্রী। অন্ধকার ঘরে রাত কাটানোর মানসিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা।