দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করল এনডিএফবি (সংবিজিত) গোষ্ঠী। সম্প্রতি মায়ানমারের জঙ্গলে আত্মসমর্পণ করেন এই জঙ্গি সংগঠনের ৫০ জনেরও বেশি সদস্য। এঁদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের প্রধান বি সারাইগাও। কড়া পাহারায় তাঁদের মায়ানমার থেকে অসমে নিয়ে আসে সেনা। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার, অসম সরকার ও এনডিএফবি (সংবিজিত) গোষ্ঠী মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সচিব সত্যেন্দ্র গর্গ, অসম সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিক আশুতোষ অগ্নিহোত্রী ও এনডিএফবি প্রধান বি সারাইগা যুদ্ধ বিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ফলে প্রায় চার দশক ধরে চলে আসা হিংসাত্মক কার্যকলাপ আপাতত বন্ধ হল বলে মনে করা হচ্ছে। নিম্ন অসমের কোকরাঝাড়, বরপেটা, ওদালগুড়ি ও বাকসা সহ আশেপাশের জেলায় সক্রিয় ছিল এই জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি। স্বাধীন বোড়োল্যান্ডের দাবিতে মাঝেমাঝেই হিংসাত্মক কার্যকলাপের মেতে উঠেছিল এই সংগঠন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার মায়ানমারের সঙ্গে একযোগে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে আক্রমণ তীব্র করে। মায়ানমারের ভেতরে থাকা এনএসসিএন(কে), উলফা ও এনডিএফবি জঙ্গিদের ঘাঁটিতে চলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। আক্রমণের পাশাপাশি চলে আলোচনার পথ তৈরির কাজও। তারপরেই মায়ানমার সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে এনডিএফবি (এস) জঙ্গিদের এই দলটি। পরবর্তীতে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয় সেই জঙ্গিদের ।
গত শনিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ মায়ানমারের একটি গোপন জায়গায় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র-সহ ভারতীয় সেনার সামনে আত্মসমর্পণ করেন তাঁরা। ইতিপূর্বে রঞ্জন দৈমারির নেতৃত্বাধীন এনডিএফবির বেশ কয়েকজন প্রথমসারির জঙ্গি আলোচনার রাস্তায় আসার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। তারপরেই ভাগ হয়ে যায় এনডিএফবি। যাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি, তাঁদের নিয়ে এনডিএফবি(সংবিজিত) তৈরি করে নাশকতামূলক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন ইমতি কাথার।
২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর অসমের কোকরাঝাড়, বাকসা, শোণিতপুর ও ওদালগুড়ি জেলায় এক নারকীয় হামলা চালায় ইমতি কাথারের নেতৃত্বাধীন এনডিএফবি। প্রায় শতাধিক আদিবাসী ও অন্যান্য মানুষকে নির্বিচারে গুলি করে মারে এনডিএফবি (এস) জঙ্গিরা। এরপর থেকেই অসম সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার এই জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান তীব্র করে। গ্রেফতার করা হয় একের পর এক জঙ্গিকে। এনকাউন্টারেও মারা যান অনেকে। সেনা, আধা সেনা এবং অসম পুলিশের প্রবল আক্রমণে কোণঠাসা অবস্থায় পড়েছিল সংগঠনটি। সদস্যদের উৎখাত করতে বায়ুসেনারও সাহায্য নেওয়া হয়। গা ঢাকা দিতে প্রায় সমস্ত জঙ্গি নেতা এবং সদস্যরা মায়ানমারের জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সেখানেও বারবার অভিযান চালায় মায়ানমার সেনা।
একসময়ের প্রধান ইমতি কাথারের থেকে সংগঠনের ক্ষমতা নিজেদের হাতে তুলে নেন বর্তমান প্রধান সম্পাদক বি ফেরেঙ্গা ও সভাপতি বি সারাইগা। ভারত ও মায়ানমার সেনার তল্লাশি অভিযানের মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে মায়ানমারের জঙ্গলে নাশকতামূলক কাজের প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছিলেন তাঁরা। কিন্তু কার্যত কোনঠাসা অবস্থা হয়ে পড়েছিল তাঁদের। এই পরিস্থিতিতেই এমন আত্মসমর্পণ।