
শেষ আপডেট: 29 January 2021 08:39
গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে তৈরি হবে একটি মাদার কমিটি। মাদার কমিটির সদস্যরা পুরো বিষয়টি দেখভাল করবেন বলে জানা গিয়েছে। মাদার কমিটির উপরে থাকবে মনিটরিং কমিটি। যেখানে মহকুমাশাসক, বিডিও, পঞ্চায়েত, সেচ দফতর, বন দফতর, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের প্রতিনিধিদের রাখা হচ্ছে। শ্যামবাটি ক্যানেল মোড় থেকে খোয়াই প্রবেশের পথেই যে দোকানগুলি ছিল সেগুলির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। সব মিলিয়ে ঢেলে সাজানো হচ্ছে খোয়াইকে।
বিশ্বভারতী কলাভবনের প্রাক্তন ছাত্রী, প্রয়াত শ্যামলী খাস্তগিরের উদ্যোগে বছর কুড়ি আগে এই হাট ‘শনিবারের হাটনামে এলাকায় পরিচিতি পায়। কারণ হাট বসত শনিবার বিকেলে। এলাকার মানুষদের তৈরি নানান হস্তশিল্প, বাড়িতে করা খাবার ইত্যাদি বিক্রি করাই ছিল উদ্দেশ্য। আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে বিক্রি। আড়ে বহরে এখন অনেকটাই বেড়েছে এই হাট। শুধু শনিবারে সীমাবদ্ধ না থেকে সপ্তাহের অন্যদিনও বসে এই হাট।
সৌন্দর্যায়ন পর্যটকদের মন কাড়লেও স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগে হাট কিংবা খোয়াইয়ের যে রূপ ছিল হঠাৎ করেই খুব দ্রুত সবকিছু বদলে গেল। বর্তমানে শান্তিনিকেতন ঘুরতে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশ শুধুমাত্র খোয়াইয়ের আকর্ষণেই আসেন। শান্তিনিকেতন এবং তার তাৎপর্য সেখানে ম্লান। খোয়াই হাটের পরিসর বেড়েছে অনেক। বন ছাড়িয়ে উঠে এসেছে রাস্তায়। বর্তমানে শনিবার, রবিবার যে ভিড় হচ্ছে তাতে যানজটে ভুগতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যদিও প্রশাসনের আশা, পার্কিং এলাকার কাজ হয়ে গেলে যানজটের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কৃত্রিম সৌন্দর্যায়নের ফলে সোনাঝুরি গাছের ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁদের কথায়, ‘‘আগে কয়েকশো গাছ কাটা হয়েছে। এখন গাছের গোড়াতে জায়গা না রেখেই রাস্তা ঢালাই করা হয়েছে। এতে সোনাঝুরি গাছের সমস্যা হবে, দীর্ঘজীবী হতে পারবে না গাছগুলি।’’ সেচ দফতরের অবশ্য দাবি, গাছের গোড়া ফাঁকা রেখেই ঢালাই করার নির্দেশিকা ছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।
‘গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙামাটির পথ’ এক সময় মন ভোলাত পর্যটকদের। এখন কৃত্রিম সৌন্দর্যায়নে পর্যটকদের খুশি করা গেলেও স্থানীয়রা কিন্তু খোয়াইয়ের ভবিষ্যত ভেবে আতঙ্কিত।