দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী সোমবার, ৭ ডিসেম্বর মেদিনীপুর কলেজ মাঠে জনসভা ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিনই পড়শি জেলা ঝাড়গ্রামে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকে কিছুটা অস্বস্তিই তৈরি করলেন কুর্মি সমাজের নেতারা। তাঁদের স্পষ্ট কথা, ‘দিয়াকে দিয়া নাইকে দিয়াকে হুড়কা দিয়া।’
কুর্মি নেতারা বলছেন, এর মানে হল—দেবেন তো দিন, না দিলে আমরা দরজা বন্ধ করে দিলাম। এ ব্যাপারে ঝাড়গ্রাম জুড়ে দেওয়ালে দেওয়ালে পোস্টার পড়েছে। তাতে যে যে ২৬ টি দাবির কথা বলা হয়েছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে কুর্মি সমাজের প্রধান দাবি হল, তাদের তফশিলি উপজাতিভুক্ত করতে হবে। কুর্মি জাতিদের ভূমি রক্ষায় সমগ্র জঙ্গলমহলে ছোটনাগপুর প্রজাসত্ত্ব আইন চালু করতে হবে। ঝাড়গ্রাম জেলার প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী রঘুনাথ মাহাত-র নামে করতে হবে ইত্যাদি।
https://www.youtube.com/watch?v=5aB72P-PuV8&feature=youtu.be
কুর্মি সমন্বয় মঞ্চের নেতা শিবাজি মাহাত বলেন, শুধু ঝাড়গ্রাম নয়, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকেও কুর্মি সমাজের নেতা, কর্মীরা তাঁদের অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হবেন। ঝাড়গ্রামে জেলাশাসকের দফতরের বাইরে এই অনির্দিষ্টকালীন বিক্ষোভ ধর্না চলবে। এ জন্য ইতিমধ্যেই মঞ্চ বাঁধার কাজ শেষ হয়েছে।
৭ তারিখ মেদিনীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সভা ডেকেছেন তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট বলে মনে করছেন অনেকেই। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সৌগত রায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বসার ৭২ ঘন্টা আগে সেই সভার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মূলত শুভেন্দুকে মোকাবিলা করার জন্যই তা করা হচ্ছে বলে অনেকের মত। ফলে ওই দিন তৃণমূল মেদিনীপুরে শক্তি প্রদর্শন করতে চাইবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সমান্তরাল ভাবে ঝাড়গ্রামে কুর্মি অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হলে তা অস্বস্তির বইকি।
সম্প্রতি বাঁকুড়া সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি যা বলেছেন, তার মোদ্দা কথা হল জনজাতিদের জন্য যথেষ্ট করেছে সরকার। আগামী দিনে আরও করবে। কিন্তু তার পরেও জঙ্গলমহল থেকে বিক্ষিপ্ত যে স্বর উঠছে তা ভাল লক্ষ্মণ নয় বলে অনেকের মত।
এমনিতে গত পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই দেখা গিয়েছে জঙ্গলমহলে তৃণমূলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে। লোকসভা ভোটে সেটা আরও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় একটিও আসন জেতেনি তৃণমূল। তা ছাড়া শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ছাড়লে এই অঞ্চলে তৃণমূলের জনভিত্তিতে বড় রকমের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে সবের উপরে কুর্মি অসন্তোষ কি খুব ভাল বার্তা দিচ্ছে!