দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: দলেরই নেতাকর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃণমূলের দুই যুব কর্মী। যুব তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়। গোলমাল শুনে থানা থেকে পুলিশ ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আক্রান্ত হয়েছে যুব তৃণমূলের দুই কর্মী কৌশিক সিংহ ও দীপক পাসওয়ান। তাদেরকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মাটিতে ফেলে লাথি চর-ঘুষি মারা হয় তাঁদের, এমনটাই দাবি আক্রান্তদের। তাঁদের আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আহত অবস্থায় দুজনকেই হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, ‘‘তৃণমূল নেতা সাহেব দাস তাঁর দলবল নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয়েছে আমাদের।’’
যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সাহেব দাস গোটা ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ১ ব্লকের যুব সভাপতি জিয়াউর রহমানের দলবল নেই। কর্মী শূন্য অবস্থা চলছে যুব সভাপতির। তিনি বলেন, ‘‘তাই আমাদের ভয় দেখিয়ে, জোর করে নিজের গোষ্ঠীতে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাতে যুব সভাপতি জিয়াউর রহমানের কিছু দলবল মদ্যপ অবস্থায় ছিল। তারা নিজেরাই গন্ডগোল লাগিয়েছে। তৃণমূলে থেকে দলেরই ক্ষতি চাইছে জিয়াউর রহমান।’’
যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুব তৃণমূল ব্লক সভাপতির জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, ‘‘এই সমস্ত কর্মীরা বিজেপি থেকে দলে যোগ দিয়ে দলের নীতি ও আদর্শকে নষ্ট করে দিতে চাইছে। যাতে করে বিজেপির সুবিধা হয়। এরা তৃণমূলের কেউ নয়।’’
তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের ঘটনায় তাঁদের নাম জুড়ে যাওয়ায় তৃণমূলকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন জেলা বিজেপি সম্পাদক কিষান কেডিয়া। তিনি বলেন, ‘‘ওদের দলে এক একজন নেতার এক একটা শিবির। কারও সঙ্গে কারও সুসম্পর্ক নেই। নিত্যই নিজেদের মধ্যে গোলমাল চলছে। এখন বিজেপির নামে দোষ দিলে হবে! আগে নিজেদের ঘর সামলাক।’’