দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: হারের দায়ভার মাথায় নিয়ে ২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসন থেকে ফের লড়ে সেই আসন জিতিয়ে দলনেত্রীর হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত গৌতম দেব। জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের কর্মী সম্মেলন থেকে ২১ এর বিধানসভায় জোর লড়াইয়ের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী।
গত বিধানসভা ভোটে জলপাইগুড়ি জেলার ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন গৌতম দেব। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে জেলার সাতটি বিধানসভা আসনের মধ্যে কেবলমাত্র জলপাইগুড়ি বিধানসভা আসন বাদে বাকি ছ’টি আসনেই প্রচুর ভোটে জিতেছিল তৃণমুল কংগ্রেস। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে দেখা যায় উল্টো ছবি। জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্র থেকে ৫০.৬৫ % ভোট পেয়ে লোকসভা আসন দখল করে বিজেপি।
ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা আসনে ৮৬ হাজার ভোটে হেরেছে তৃণমুল। এরপর থেকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠতে শুরু করে আগামী ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে হয়তো ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসন থেকে আর ভোটে লড়বেন না গৌতম দেব। কিন্তু মঙ্গলবার রাজগঞ্জ ব্লকে তৃণমূলের বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলনে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দেন খোদ মন্ত্রী। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলে দিলেন, ‘‘যেহেতু এই আসনে দায়িত্ব নিয়ে আমি কাজ করছি তাই দায়িত্ব অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি পরিযায়ী পাখির মতো আজ এই আসনে কাল অন্য আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারব না। একটি ভালো জায়গা যদি খারাপ হয়ে থাকে তার দায় আমার। এবার সেই খারাপ হয়ে যাওয়া জায়গাকে ভালো করে আবার নেত্রীর হাতে তুলে দেওয়াটাই আমার কাজ। সেটাই আমি নেত্রীকে জানিয়েছি। দলের মধ্যে মনোমালিন্য-বিরোধিতা ইত্যাদি থাকতেই পারে, কিন্তু যখন নির্বাচন ঘোষণা হয় তখন শুরু হয় যুদ্ধ। আর যাঁরা যুদ্ধের ময়দানে নেমে বিরোধিতা করেন তাদের নাম মীরজাফর।’’
মঙ্গলবার বিকেলে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সিপাই পাড়াতে অনুষ্ঠিত হয় তৃণমূলের রাজগঞ্জ ব্লকের বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের উত্তরবঙ্গ কোর কমিটির চেয়ারম্যান গৌতম দেব, দলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী, রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায়, জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন সহ অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা।