দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পাওনা টাকা ফেরতের দাবিতে হাসপাতাল চত্বরে প্রাক্তন সুপারকে আটকে রাখল কয়েকজন ঠিকাদার। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে। ঘেরাও থাকা প্রাক্তন হাসপাতাল সুপার রতন শাসমলকে কাটোয়া হাসপাতাল চত্বরের একটি সাইকেল গ্যারাজ থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনা হাসপাতাল সম্পর্কিত নয় বলে জানিয়েছেন বর্তমান সুপার নবারুণ গুপ্ত। অন্যদিকে, প্রাক্তন হাসপাতাল সুপার রতন শাসমল ঠিকাদারদের টাকা পাওনা থাকার কথা অস্বীকার করেন।
প্রায় পাঁচ বছরের উপর কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার পদে থাকার পর ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর রতন শাসমল কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল থেকে বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে সুপার পদে বদলি হন। অভিযোগ, কাটোয়া থেকে বদলি হওয়ার পরও সপ্তাহে দু-একবার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে যাতায়াত করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতালের ভিতরে প্রাক্তন সুপার রতন শাসমলকে দেখতে পেয়ে হাসপাতালের ঠিকাদার শিবপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসীম দে ও অয়ন মুখোপাধ্যায় সদলবলে টাকার দাবিতে তাঁকে ঘিরে ফেলে। ঠিকাদারদের হাত থেকে বাঁচতে নিজের গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে ঠিকাদাররা গাড়ি আটকে দাঁড়িয়ে থাকে।
ঠিকাদারদের হাত থেকে ছাড়া না পেয়ে হাসপাতালের সাইকেল গ্যারাজে বসে বিভিন্নজনকে ফোন করতে থাকেন। ঘণ্টা খানেক পর কাটোয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রতন শাসমলকে উদ্ধার করে তাঁর গাড়িতে চাপিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। তাঁর কাছে ঠিকাদারদের টাকা পাওনা থাকার কথা অস্বীকার করেন রতন শাসমল।
তাঁর কার্যকালে একশ্রেণির ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের নানান কাজ দেখিয়ে প্রচুর ভুয়ো বিল জমা দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টার একটি অভিযোগ উঠেছে। কাটোয়া হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতি এই অভিযোগের সত্যতা জানতে ঠিকাদারদের কাছে উপযুক্ত কাজের নথি চেয়েছে। প্রাক্তন সুপার রতন শাসমল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘ভুয়ো কাজের বিল দেখিয়ে আমাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’
বর্তমান সুপার নবারুণ গুপ্ত ভুয়ো কাজ দেখিয়ে ঠিকাদারদের বিল তোলার চেষ্টার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘‘এই ব্যাপারটা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে পাঠিয়েছি। এখনও কিছু বলার সময় আসেনি। কিন্তু কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের প্রাক্তন সুপার রতন শাসমলকে ঠিকাদাররা ঘেরাও করেছিলেন সে খবর কাটোয়া থানার পুলিশ মারফত জেনেছি। তবে এই ঘটনার সঙ্গে হাসপাতালের কোনও সম্পর্ক নেই।’’