দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শুরুতেই ধাক্কা। নিম্নচাপের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র। তাই প্রথম যাত্রায় অধরাই থেকে গেল ইলিশ। একরকম খালি হাতেই ফিরতে হল বেশিরভাগ মৎস্যজীবীকে। গত কয়েক মরসুম গেছে ইলিশের খরা। তাই নিষেধাজ্ঞা উঠতেই এবার অনেক আশা নিয়ে ইলিশের খোঁজে ট্রলার ভাসিয়েছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় নিরাশ হতে হল তাঁদের।
ডায়মন্ডহারবার থেকে কাকদ্বীপ, সাগর থেকে নামখানা, পাথরপ্রতিমা, বকখালি, রায়দিঘি সর্বত্র এখন কপালে ভাঁজ মৎসজীবীদের। ৬১ দিন পার হতেই ১৪ই জুন সাগরে পারি দিয়েছিল কয়েক হাজার ট্রলার। কিন্তু মাছ ধরায় বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিম্নচাপ। পূবালী হাওয়া আর ইলশেগুড়ি বৃষ্টির আশায় যাওয়া। কারণ এমন আবহাওয়াতেই নাকি ধরা দেয় ইলিশের ঝাঁক। কিন্তু ট্রলার গভীর সমুদ্রে পৌঁছতেই বদলে গেছে আবহাওয়া। প্রবল হাওয়া আর বৃষ্টিতে জলে ঘূর্ণি। ইলিশের দেখা মেলেনি। সরকারের তরফে লাল সতর্কতা জারি হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় মাছ ধরা। যারা সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন ট্রলারের মুখ ঘুরিয়ে বিভিন্ন খাঁড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁদের।
যেখানে শুরুতে হাজার হাজার টন ইলিশ মেলে, সেখানে ডায়মন্ডহারবারে গত দু’দিনে মিলেছে মাত্র একশো টন ইলিশ। হিসাব করলে হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি ট্রলার ইলিশ মাছ এনেছে। সমুদ্রে যেতে এখন ট্রলার পিছু খরচ আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। সেখানে মাছ না নিয়ে ফিরতে হওয়ায় ফের ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। ফিরে আসা মৎস্যজীবী, বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘‘গত কয়েক বছর ধরেই ইলিশের খরা চলছিল। তাই আর্থিক অনটনও পিছু ছাড়ছিল না। কারণ বছরভর মাছ ধরলেও এই ইলিশের মরসুমের দিকেই তাকিয়ে থাকি আমরা। এসময় যে আয় হয় তা থেকেই মহাজনের ধার শোধ করি। সংসারের স্বাচ্ছল্যও এই মরসুমের আয়ের উপরই নির্ভর করে। এবার অনেক আশা করে ছিলাম। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খেলাম।’’
প্রতিবছর এই সময় ইলিশের ঝাঁক নিয়ে ট্রলার ফিরলেই সাড়া পড়ে যায় ডায়মন্ডহারবারের নগেন্দ্র বাজারে। এবার সেখানে শুনশান। বন্ধ বেশিরভাগ আরত । নিম্নচাপ কাটলে আবারও সমুদ্রে পারি দেবে ট্রলার। কিন্তু ২৬ শে জুন পূর্ণিমার কোটাল । তাই সমুদ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে মৎসজীবিদের। গত কয়েক মরসুমে ক্ষতিগ্রস্ত মৎসজীবিদের আশা ছিল এ মরসুমে হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন তাঁরা। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা খাওয়ায় চির ধরেছে মনোবলে। তবুও ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তাঁরা । নিম্নচাপ কাটলে নিশ্চই জলে ধর পড়বে রুপোলি ফসল। সেই আশায় দিন গুনছেন তাঁরা।