অফিসযাত্রীদের সুবিধায় উত্তরপাড়ার পর ফেরি সার্ভিস চন্দননগর ও শ্রীরামপুর থেকেও, তবে সামাজিক দূরত্ব বাদ রেখেই
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ট্রেন চালু হয়নি এখনও। ভাড়া বিতর্ক মেটেনি বলে রাস্তায় বেসরকারি বাসও হাতেগোনা। কিন্তু চালু হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। এই পরিস্থিতিতে অফিসে তো পৌঁছতেই হবে। অফিস যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে চন্দননগর থেকে কলকাতার ফেয়ার
শেষ আপডেট: 10 June 2020 06:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: ট্রেন চালু হয়নি এখনও। ভাড়া বিতর্ক মেটেনি বলে রাস্তায় বেসরকারি বাসও হাতেগোনা। কিন্তু চালু হয়ে গেছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। এই পরিস্থিতিতে অফিসে তো পৌঁছতেই হবে। অফিস যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে চন্দননগর থেকে কলকাতার ফেয়ারলি পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস চালু হয়ে গেল বুধবার থেকে। তবে সামাজিক দূরত্বের কোনও বালাই সেখানে চোখে পড়েনি। বরং লঞ্চের আসনে গায়ে গা লাগিয়ে বসেই অফিস রওনা হয়েছেন যাত্রীরা।
চন্দননগর থেকে ফেয়ারলি পর্যন্ত ভাড়া স্থির হয়েছে ৬০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৭টায় চন্দননগরের রানিঘাট থেকে ছেড়ে ভদ্রেশ্বর তেলেনিপাড়া, চাঁপদানী, শেওড়াফুলি, বাগবাজার হয়ে এই লঞ্চ কলকাতার ফেয়ারলি পৌঁছবে সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ। হাতেগোনা সরকারি বাসে যেখানে বাদুরঝোলা হয়ে যেতে হচ্ছে, সেখানে কিছুটা অন্তত স্বস্তি ও স্বাচ্ছ্যন্দে যেতে পারবেন বলেই মনে করছেন যাত্রীরা। তবে একই সঙ্গে তাঁদের অনেকেরই বক্তব্য, যেহেতু সামাজিক দূরত্ব মেনে লঞ্চ চালানো হচ্ছে না, তাই ভাড়াটা আরেকটু কম করাই যেত।

অফিসযাত্রীদের কথা ভেবে শ্রীরামপুর থেকেও ফেয়ারলি পর্যন্ত লঞ্চ চালু হল আজ। প্রতিদিন সকাল আটটায় ছাড়বে এই লঞ্চ। এর ভাড়া স্থির হয়েছে ৪৬ টাকা। আনলক পর্বে অফিস কাছারি খুলেছে। তাই কলকাতা যাওয়ার লোকও বেড়েছে। হুগলি জেলা থেকে কয়েকটি সরকারি বাস চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম হওয়ায় ভিড় হচ্ছে খুব। তাই অফিস যাত্রীদের কথা ভেবেই পরপর চালু হচ্ছে লঞ্চ পরিষেবা।
এর আগে উত্তরপাড়া থেকে ফেয়ারলি পর্যন্ত লঞ্চ চালু হয়েছে। বুধবার শ্রীরামপুর ও চন্দননগর ফেরিঘাট থেকে লঞ্চ চালু করা হয়। প্রথমদিন দু’টি ফেরি সার্ভিসেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। দেশজুড়েই করোনার সংক্রমণ ক্রমশ বাড়ছে। ব্যতিক্রম নয় এ রাজ্যও। কিন্তু অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শুরু হয়ে গেছে আনলক পর্ব। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজকর্মের গতি সচল রাখার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। তবে নিজস্ব যানবাহন না থাকলে অফিসের পথে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যে একরকম সোনার পাথরবাটি তা এতদিনে টের পেয়ে গেছেন সবাই। তাই আপাতত সামাজিক দূরত্ব মানার চেষ্টা মাথায় তুলে একটু আরামে যাতায়াতেই যেন স্বস্তি।
শ্রীরামপুর পুর প্রশাসক অমিয় মুখার্জীও বললেন, ‘‘অফিসের পথে যাত্রীদেরই সতর্ক থাকতে হবে। ৪৬ টাকা ভাড়াটা একটু বেশি বলে বলছেন যাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।’’