দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: পাড়ুইয়ে অশান্তির ঘটনায় বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি সহ আটজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের সিউড়ি আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল-সহ অন্যান্য নেতারা।
বুধবার বিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে বোমাবাজিতে উত্তপ্ত হয় পারুই। জেলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিজেপির নেতা ও কর্মীদের উপর পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে বীরভূম জেলার ২৩ টি থানা এলাকায় এদিন বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতি শেখ সামাদের নেতৃত্বে প্রায় তিন হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন পারুই থানার সামনে।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রায় কুড়িজন দুষ্কৃতী বিজেপির সেই কর্মসূচি বানচাল করতে ব্যাপক বোমাবাজি শুরু করে। দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় সেখ সামাদ-সহ কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগ। প্রায় ঘণ্টাখানেকের মতো সেই বোমাবাজি চলে। সেই সময় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও ফের বেলা দেড়টা নাগাদ পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালিত হয়। বীরভূম জেলা বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি শেখ সামাদ অভিযোগ করেন, স্থানীয় দুই তৃণমূল নেতার প্রত্যক্ষ মদতেই এদিন দুষ্কৃতীরা পুলিশের সামনেই তাদের লক্ষ্য করে বোমাবাজি করে। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারের দাবিও জানান তিনি। বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অভিজিৎ সিংহ অবশ্য দাবি করেন, উৎসবের সময় অশান্তি পাকাতেই বিভিন্ন থানা এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। এদিন তাদের দলের লোকেরাই বোমাবাজি করে। এখানে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও ভূমিকাই নেই।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় পারুই থানার সামনে। পরে এসডিপিও (বোলপুর) এর নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনাতেই বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জেলা সভাপতি সহ আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে চারজন তৃণমূলের কর্মী।