দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা লকডাউন বাড়িয়ে দিচ্ছে মানসিক চাপ। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে অনেকেরই। কারও মানসিক স্থিতি নষ্ট করছে অভাব। কাজ হারানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ ও হতাশা গ্রাস করছে কাউকে। ভবিষ্যতের ভাবনায় মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মানুষ। শুধু ঘরে থাকা সাধারণ মানুষই নন, মানসিক অবসাদ ব্যাপক হারে গ্রাস করছে চিকিৎসক আর স্বাস্থ্যকর্মীদেরও।
এই দুইদিকে ভেবেই এগিয়ে এলেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। লকডাউনের সময় চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের অবসাদ কাটাতে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চালু হচ্ছে বিশেষ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা। এখানকার মনোরোগ বিভাগেই এই কাউন্সেলিং করা হবে। দু'ভাবে দেওয়া হবে পরিষেবা। বিশেষ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডে এসে করা যাবে কাউন্সেলিং। আবার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে বাড়িতে বসে এই সুবিধা পেতে পারেন অবসাদগ্রস্ত মানুষজন। বিশেষ এই হেল্প লাইন নম্বরে ফোন করে ঘরে থাকা সাধারণ মানুষ যেমন মনোবিদদের পরামর্শ পেতে পারেন, তেমনই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও মানসিক সমস্যার জানাতে পারবেন।
মহামারী করোনা রুখতে বাধ্য হয়ে ঘরে থাকতে হচ্ছে সবাইকে। দেখা হচ্ছে না কারও সঙ্গে। হচ্ছে না ভাবের আদানপ্রদান। বিচ্ছিন্ন জীবন কাটাতে হচ্ছে।এতে করোনাভাইরাসের ছোবল থেকে রেহাই পেলেও মানসিক সমস্যা বাড়ছে। সমাধান কী? সেই উপায়ই বাতলে দেবেন মনোবিদরা। অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রথম সারিতে থেকে লড়াই করতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। আক্রান্ত হওয়ার ভয় নিয়ে প্রতিপদে এই লড়াইয়ে মানসিক অবসাদে ডুবে যাচ্ছেন অনেকেই।
উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডাক্তার কৌশিক সমাজদার বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মানসিক চাপ এসেই যায়। ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের এক্ষেত্রে অনেক বেশি লড়াই করতে হয়। পরিবারের কাছে সবসময় যেতেও পারেন না। প্রতিবেশীরাও অনেকসময় বাধা দেয়। তাই আমরা সবসময় তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সাধারণ মানুষকেও অযথা চিন্তা না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কাউন্সেলিংটা চালু হলে সবারই সুবিধা।’’
মেডিক্যালের ডিন অফ স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স ডাঃ সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘এই কাউন্সেলিং চালু হলে অন্তত যে সমস্ত চিকিৎসক ও ইন্টার্নরা সরাসরি করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছেন, তাঁদের মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। খুব শিগগিরই একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হবে। সাধারণ মানুষও সেখানে মানসিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’’