দ্য ওয়াল ব্যুরো : আজ তিনি ঘরের জামাই। সকাল সকালই তাঁর অঙ্গে উঠেছে ধাক্কা পাড়ের ধুতি, আদ্দির ফিনফিনে পাঞ্জাবি। তাঁকে পাখার বাতাস করে ধন্য হচ্ছেন নবদ্বীপের মেয়ে বৌ-রা। দুপুরে সামনে সাজিয়ে দেওয়া হল তাঁরই পছন্দের হরেক পদ। আজ যে জামাইষষ্ঠী।
তখনও তিনি বিশ্বম্ভর। সর্প দংশনে প্রথম স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর বিয়ে হয় সনাতন মিশ্রের কন্যা বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে। সংসার ত্যাগ করে চলে যাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসে বিষ্ণুপ্রিয়াকে দিয়ে গিয়েছিলেন নিজের একখানি মূর্তি। বিষ্ণুপ্রিয়া সেবিত মহাপ্রভুর সেই মূর্তিই পূজিত হয় নবদ্বীপ ধামে। প্রতিবছর এই বিশেষ দিনটায় জামাই হিসেবেই বরণ করা হয় সনাতন মিশ্রের জামাই মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবকে। বেশবাস, ভোগ সবেই এ দিন নতুনত্ব।
শ্রীচৈতন্য বিশেষজ্ঞ চৈতন্যময় নন্দ বলেন, হরেক রকম শাক আর পায়েস খেতে ভালবাসতেন মহাপ্রভু। শচীমাতাও তাই প্রতিদিন নানা শাকের পদ রেঁধে খাওয়াতেন সন্তানকে। রাঁধতেন নানারকমের পায়েস। জামাই আদরের মেনুতেও ছিল তাঁর মনের মতো পদ। এ দিন দুপুরে মোচার ঘণ্ট, কচুর শাক, পাঁচ তরকারি, ছানার ডালনা সাজিয়ে ভোগ দেওয়া হল তাঁকে। আর অবশ্যই নানারকম পায়েস।