
শেষ আপডেট: 3 October 2023 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি চলছিল কাজে বাধা দেওয়া। ফলে নিজের স্কুলেই ঢুকতে পারছিলেন না সহকারী প্রধান শিক্ষক। সৌজন্যে স্কুলের ৩ শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতার দাদাগিরি। শেষমেশ কর্মক্ষেত্রে ফিরতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নাহিট এফপি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক দিলীপ কুমার নট্য। অবশেষে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে ১৫ মাস পরে মিলল নতুন স্কুলের ঠিকানা।
২০১৪ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে ওই স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন দিলীপবাবু। পরে টিচার ইনচার্জ অর্থাৎ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। স্কুলের পঠনপাঠনের মান উন্নয়নে থেকে শুরু করে স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নতি- সবই তাঁর তত্ত্বাবধানে হচ্ছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে একমাত্র সন্তানের চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরুতে যেতে হয়েছিল দিলীপবাবুকে। সেইসময় অবৈধভাবে তাঁকে টিচার ইন চার্জের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তিনি স্কুলে যোগদান করেন। কিন্তু তারপর থেকেই নতুন করে দিলীপবাবুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে স্কুলেরই তিন শিক্ষক তথা তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
সূত্রের খবর, ২০১৭ সালে স্থানীয় ওই তিন তৃণমূলের নেতা স্কুলে শিক্ষকের চাকরিতে যোগদান করেন।
দিলীপবাবু জানিয়েছেন, ঘটে যাওয়া ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুরের ডিআই ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যানকে জানানো সত্ত্বেও কোনও লাভহয়নি। এমনকী স্কুলে আর্থিক তছরুপ এবং নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরকে জানালেও ওই তিন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে দিলীপবাবুর উপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে স্থানীয় তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ওই তিন শিক্ষক সহকারী প্রধান শিক্ষককে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেন বলে অভিযোগ।
এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন দিলীপবাবু। মামলকারীর পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে সম্পূর্ণ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন। তিনি বলেন, কোনও সহকারী প্রধান শিক্ষকে তাঁর অনুপস্থিতিতে পদ থেকে সরানো যায় না। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর তাঁর অভিযোগ খতিয়ে না দেখেই তাঁর বেতনও বন্ধ করতে পারে না, করলে তা বেআইনি। দীর্ঘদিন স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়াও বেআইনি। শিক্ষা দফতরের উচিত ছিল, সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখে ওই শিক্ষক যাতে স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারেন তার ব্যাবস্থা করা।
বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবীর কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা তলব করেন। কিন্তু রাজ্যের আইনজীবী চাইলে তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। তাই বিচারপতি স্কুলের সহ শিক্ষক ও দক্ষিণ দিনাজপুর ডিআইকে ৫ই অক্টোবর সশরীরে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেন।
বিচারপতির নির্দেশের পরেই তড়িঘড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর প্রাইমারি কাউন্সিল বৈঠক ডেকে বেরলি এফপি স্কুলে দিলীপ কুমার নট্যকে নিয়োগপত্র দেন। তবে আগামী ৫ই অক্টোবর ডি আই এবং সহকারী শিক্ষক আদালতে হাজির হয়ে কী ব্যাখ্যা দেন, সেটাই এখন দেখার।