দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতকালই রাজ্যের মুখ্যসচিবের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, যেসব স্কুলে অকৃতকার্য হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে, তারা যেন স্কুলের কাছে সে কথা কথা জানায়। সেই সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বলা হয়, ৭ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ বা আবেদন থাকলে উপযুক্ত নথির সঙ্গে তা পেশ করতে হবে। আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবে সংসদ।
কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই বিদ্যাসাগর ভবনে এসেন সমস্ত সমস্যা এবং নথিপত্র নিয়ে। তাদের কথা বিবেচনা করে, আজ রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সমস্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দফতরে হাজির থাকতে বলা হয়। ইতিমধ্যে সভাপতি মহুয়া দাসও বিদ্যাসাগর ভবনে এসে পৌঁছেছেন। ফলাফল-সংক্রান্ত অভাব-অভিযোগের কথা বিবেচনা করে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।
তিন দিন আগে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকেই উত্তাল রাজ্য। একাধিক জায়গায় বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন অকৃতকার্য হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা। অভিযোগ উঠেছে, মূল্যায়ন হয়নি ঠিক ভাবে। এমনকি সংসদের গণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্কুলের শিক্ষকরাও।
শিক্ষকদের দাবি, যে মূল্যায়ন পদ্ধতি সংসদ বলে দিয়েছিল সেই পদ্ধতিতেই গণনা করেছিলেন তাঁরা। তবে তার সঙ্গে মিলছে না পর্ষদের হিসেব। আজকে পর্ষদে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানতে আসেন বেশ কিছু শিক্ষকও। তাঁদের অবশ্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ কেবল প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকেই গ্রহণ করা হবে ফলাফল সংক্রান্ত আবেদন।
গতকালই উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট নিয়ে এত বিক্ষোভ ও অসন্তোষের কৈফিয়ত চাইতে সংসদের সভানেত্রী মহুয়া দাসকে নবান্নে তলব করেছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। মুখ্যসচিব তাঁক কাছে জানতে চান, কেন পড়ুয়াদের মধ্যে এত অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পুরো বিষয়টা আবার যথোপযুক্ত মূল্যায়ন করা দরকার বলেও জানান তিনি। সংসদকে দায়িত্ব নিয়ে এই কাজ করার কথা বলেছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী।
যদিও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের দাবি, সঠিক পদ্ধতি মেনেই সমস্ত পড়ুয়ার মূল্যায়ন করেছে তারা। তবু যদি কোনও সমস্যা থাকে তবে তার দায় স্কুলগুলির। স্কুল কর্তৃপক্ষ ভুল তথ্য পাঠিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার মূল্যায়ন যে পদ্ধতিতে করা হয়েছে তার সমস্ত বিস্তারিত তথ্য এদিন মহুয়া দাস নবান্নে নিয়ে এসেছিলেন বলে খবর।
সব মিলিয়ে সংসদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এখনও কাটল না জট।