দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বাড়ানো হল ষষ্ঠ বেতন কমিশন এর মেয়াদ। অর্থাৎ এ বছরের ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হল পে কমিশনের মেয়াদ। সোমবার এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন।
এই দফায় সাত মাসের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলো পে কমিশনের। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর এই ষষ্ঠ পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য। তারপর থেকে বেশ কয়েক বার এই পে কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত কাল পে কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়। সেই মেয়াদ আবার বাড়ানো হল ৭ মাসের জন্য।
কিন্তু বারবার কেন মেয়াদ বৃদ্ধি? কেন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না পে কমিশন? দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে কমিশনের চেয়ারম্যান তথা অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "এ ব্যাপারী আমি কোনও মন্তব্য করব না।"
ফের পে কমিশনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে ফুঁসছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় শঙ্কর সিংহ বলেন, "সারা দেশের সব রাজ্য সরকার পে কমিশন- সহ ডিএ আপডেট করে দিয়েছে। শুধু আমাদের রাজ্যেই সরকারি কর্মচারীরা দিনের পর দিন চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।" বিজয়বাবুর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেই তাদের সংগঠনের নেতাকর্মীদের দূরদূরান্তে বদলি করে দিচ্ছে। মঙ্গলবার টিফিনের বিরতিতে সব সরকারি দফতরে পে কমিশনের মেয়াদ ফের বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
লোকসভা ভোটের প্রচারে এসে ধারাবাহিক ভাবে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ পে কমিশন নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন। বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। পুরুলিয়ার জনসভায় এ-ও বলেন, "বাংলায় বিজেপি-র সরকার হলে, সবার আগে পে কমিশনের কাজ শেষ করবে।" বিজেপি সভাপতির কথায়, "ত্রিপুরায় সরকারে এসেই প্রথম বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের কাজ করেছে বিপ্লব দেবের সরকার।"
ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ তো রয়েইছে, তার পর যোগ হয়েছে ষষ্ঠ পে কমিশন। দেখা গিয়েছে এ বারের লোকসভা ভোটে রাজ্যের ৩৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালটের ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একটিতে বাম এবং একটিতে তৃণমূল (ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে কোনও পোস্টাল ব্যালট ছিল না)। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটেছে পোস্টাল ব্যালটে। এখন দেখার, কবে ষষ্ঠ পে কমিশন তাদের কাজ শেষ করে। কতটা তৎপর হয় সরকার।