
শেষ আপডেট: 21 October 2022 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড় সিতরাং (Sitrang) নিয়ে ক্রমেই আশঙ্কার মেঘ ঘণীভূত হচ্ছে। কিন্তু এই ঝড়ের গতিবিধি কী হতে চলেছে, কোথায় আছড়ে পড়বে, তীব্রতা কী হবে তা নিয়ে শুক্রবার বিকেলে একটি ধারণা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর (Weather Update)। এদিন হাওয়া অফিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, সুপার সাইক্লোনের কোনও আশঙ্কা নেই।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে রয়েছে। ২২ তারিখ অর্থাৎ শনিবার এই নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। বর্তমানে এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হলেও গভীর নিম্নচাপের পরে তা উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে এগোবে।
২৩ তারিখ এটি অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। তখন এটি উত্তর দিক বরাবর এগোবে। সোমবার অর্থাৎ ২৪ তারিখ এই নিম্নচাপ পূর্ব-মধ্য ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। তবে পরে আবার এই ঘূর্ণিঝড়টি দিক পরিবর্তন করে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে। মঙ্গলবার, ২৫ তারিখ এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বা সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্মে পরিণত হবে বলে জানান হাওয়া অফিস। মঙ্গলবার এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূল বরাবর সমুদ্রে অবস্থান করবে।
তবে এই ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু এখনও বলতে পারেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। তবে এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে এদিন জানালেন সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
স্মৃতিতে আমফানের তাণ্ডবলীলা, সিতরাংয়ের আগে কলকাতার বিপজ্জনক বাড়ি থেকে লোক সরানো শুরু
হাওয়া অফিস সূত্রের খরব, মূলত দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী সোমবার এই জেলাগুলির উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। মঙ্গলবার অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার ৪৫-৫৫ কিলোমিটার গতিতে বইতে পারে হাওয়া। আর মঙ্গলবারে এই হাওয়ার গতি বাড়াবে। তা ৯০-১১০ কিমিতে পৌঁছবে।
সোম ও মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া-হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকাতেও হালকা-মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ৩০ থেকে ৫০ কিমি বেগে হাওয়া বইবে এই জেলাগুলির ওপর দিয়ে।
২৩ তারিখ থেকে মৎসজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। হাওয়া অফিস আরও জানাচ্ছে, মূলত সুন্দরবন এলাকায় এই ঝড়ের ফলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৪ ও ২৫ তারিখ ফেরি চলাচল বন্ধ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এমনকী দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর--- এইসব পর্যটন স্থানেও কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ধেয়ে আসছে সিতরাং, এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ দলকে প্রস্তুত থাকতে বলল নবান্ন