বুদ্ধদেব বেরা, ঝাড়গ্রাম: একজনের বয়স ১৬। অন্যজনের ১৫। ঝাড়গ্রাম শহরের ননীবালা বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী পূজা বিশ্বাস, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে তাঁর বোন মনীষা। ভালো ছাত্রী হিসেবেই পরিচিতি দুজনের। পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে নার্স হওয়ার ইচ্ছে পূজার। মনীষাও চায় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে। কিন্তু বাধ সেধেছিলেন বাবা মা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার বাসিন্দা এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে ফেলেন পূজার। আর তাঁর বন্ধুর সঙ্গে মনীষার।
অভিযোগ. রাজি না হওয়ায় দুই বোনের উপর শুরু হয় নির্যাতন। স্কুল, টিউশন সবই বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের। সোমবার দুজনেই বাড়িতে জানায়, তারা বিয়েতে রাজি। শেষবার স্কুলে দেখা করতে যেতে চায়। মা বাবাকে রাজি করিয়ে কোনওমতে মঙ্গলবার স্কুলে আসে। চৌকাঠ পেরিয়েই এরপর সোজা প্রধান শিক্ষিকার ঘরে। বাবা মায়ের নির্যাতনের কথা পুরোটাই জানায় তাঁকে। বলে, বাড়িতে নিত্য যাতায়াত শুরু করেছে পাত্র। তাঁর সঙ্গে কথা না বলায় প্রচণ্ড মারধর করা হয় পূজাকে। আর যে তারা বাড়ি ফিরতে রাজি নয় জানায় সে কথাও। দু বোনের লিখিত অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুচেতা সেনগুপ্ত বসু প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। স্কুলে ছুটে যান ঝাড়গ্রামের এসডিপিও দীপক সরকার, বিডিও অভিজ্ঞা চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রাম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শিউলি সিংহ।
পূজা আর মনীষার বাবা রাহুল বিশ্বাস পেশায় দর্জি। মা মঞ্জু পরিচারিকার কাজ করেন। স্কুলে ডেকে পাঠানো হয় তাঁদের। মেয়েদের আনা অভিযোগ মেনে নেন তাঁরা। অনেক বার বোঝানো হলেও আর বাড়ি ফিরতে রাজি হয়নি পূজা আর মনীষা। মহকুমাশাসক নকুলচন্দ্র মাহাতো র কাছে অন্যত্র থাকার জন্য আবেদন করে তারা। এরপরেই দুই বোনকে ঝাড়গ্রামের একটি সরকারি হোমে রাখার ব্যবস্থা হয়।
পূজা বলে, “আমি এখন কন্যাশ্রী পাচ্ছি , আমি এখন পড়তে চাই। বড়ো হয়ে আমি নার্স হতে চাই।” একই রকম আত্মবিশ্বাসী পূজার বোন মনীষাও। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ছোট্ট দুই মেয়ের তাগিদকে কুর্নিশ করছে গোটা ঝাড়গ্রাম প্রশাসন।