
শেষ আপডেট: 12 June 2018 11:22
চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই সুন্দরবন হয়ে কলকাতা ছুঁয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে রাজ্যে। উত্তর ২৪ পরগনা হয়ে বাংলাদেশের দিকেও চলে যায় এই বায়ু। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় এবং সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। তবে ৪৮ ঘণ্টা পর মৌসুমী বায়ুর গতি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ফলে ঝাড়খন্ড-বিহারে বর্ষা বিলম্বিত হতে পারে।
সাধারণত, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর দু’টি শাখার একটি আন্দামান ও মায়ানমার হয়ে, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে ঢোকে। সেটাই অসম হয়ে উত্তরবঙ্গ দিয়ে আমাদের রাজ্যে ঢোকে। অন্যটি দক্ষিণ ভারতের কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা হয়ে দক্ষিণবঙ্গে চলে আসে সপ্তাহখানেকের। এবার ছক উল্টে গিয়েছে। দক্ষিণেই আগে এসেছে বর্ষা।
আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্য জুড়ে কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলি, দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বেশি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আকাশ অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকবে। তবে দখিনা বাতাসে ভর করে বৃষ্টি হলেও অস্বস্তি কমবে না।
মঙ্গলবার দুপুরেই আকাশ ছেয়ে কালো মেঘ ঘনায়। কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগনা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন অংশে শুরু হয়ে যায় বৃষ্টি। বৃষ্টি হয়েছে সংলগ্ন রাজ্য ওড়িশার ভুবনেশ্বর ও পুরীতেও।
মৌসম ভবনের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (পূর্বাঞ্চল) সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গোটা পশ্চিমবঙ্গের বর্ষা আসবে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ায় মৎস্যজীবীদের সমু্দ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
নদী তীরবর্তী এলাকায় অস্থায়ী ভাবে বসবাসকারী মানুষদের সেখান থেকে নিরাপদ জায়গায় সরানোর জন্য বন্যাপ্রবণ জেলাগুলির সব জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছে সেচ দফতর। আগামী কাল বন্যাপ্রবণ জেলাগুলির ডিএম এবং জেলা সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সেচ দফতর।