
শেষ আপডেট: 8 July 2023 07:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট (Panchayat Election 2023) শুরু হতেই সকাল থেকে হিংসার ঘটনা সামনে আসছে রাজ্য জুড়ে। রক্ত ঝরা অব্যাহত। বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সন্ত্রাসের অভিযোগে শাসক বিরোধী পরস্পরকে বিঁধছে। এমন আবহে এবার ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ‘সন্ত্রাসে’র অভিযোগে সরব হলেন খোদ প্রিসাইডিং অফিসার। বললেন, “ভোটগ্রহণ চলছিল। আচমকা বুথের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল। প্রত্যেকের মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা। মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে ছাপ্পা ভোট দিয়ে চলে গেল!” পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের খিদিরপুর গ্রামের ১৪৭ নম্বর বুথের ঘটনা।
ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো আতঙ্কে বাসিন্দারা। আতঙ্কে প্রিসাইডিং অফিসার সহ অন্য ভোট কর্মীরাও। ময়নার ব্লকের বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের খিদিরপুর গ্রামের ১৪৭ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে রয়েছেন রাজারাম মাইতি। এদিন সকালে তিনি নিজেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে ছাপ্পার অভিযোগ আনেন। তাঁর কথায়, “বারবার দু দফায় ছাপ্পা ভোট দিয়ে যায়। কোন দলের লোক সেটা বলতে পারব না।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্ধারিত সময়ই ভোট গ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছিল। ৭ টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ভোট পর্বও চলে। বেশ কয়েকজন ভোটও দেন। তারপরই ২৫-৩০ জন মুখে কালো কাপড় বেঁধে ঢুকে পড়ে। বন্দুক ঠেকিয়ে প্রিসাইডিং অফিসার সহ ভোট কর্মীদের একদিকে বসানো হয়। এক ভোট কর্মীর কথায়, “ভেবেছিলাম, আর মনে হয় বেঁচে বাড়ি ফেরা হল না!”
আগ্নেয়াস্ত্রের সামনে ভোট কর্মী বা ভোটার কেউই ‘রা’ কাড়ার সাহস দেখাননি। ফলে নির্বিবাদে ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে সব ভোট দিয়ে ফিরে যায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার জেরে শুনশান ভোট কেন্দ্র। এলাকাবাসী বলছেন, ‘আমরা তো ভোটই দিতে পারলাম না। এমন ভোটের ব্যবস্থা করে কি লাভ?’ গ্রামের এক মহিলার কথায়, ‘ভোট লুঠ করে ফেরার সময় ওরা বলছিল, তোদের খুব সাহস! ভোট দিতে এসেছিস না! পরে মজা দেখাব।’ গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বিজেপি আশ্রিত। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।
আরও পড়ুন: সেন্ট্রাল ফোর্স কই, প্রশ্ন তুলে নন্দীগ্রামে ভোট বন্ধ করে দিল বিজেপি