
শেষ আপডেট: 19 September 2022 08:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে গিয়ে বাধা পাওয়া, এবং মহিলা পুলিশকর্মীকে ‘ডোন্ট টাচ মাই বডি’ বলার পর থেকেই শুভেন্দু–তৃণমূল কাদা ছোঁড়াছুড়ি চলছে। কটাক্ষ, টিপ্পনি শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ অনেকের। বিতর্ক ও ব্যাক্তি আক্রমণের সেই আগুনে এবার নতুন করে ঘি পড়ল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishekh Banerjee) পিতৃ পরিচয় নিয়ে কু–মন্তব্য করার অভিযোগে সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দুকে চরম হুঁশিয়ারি দিল শাসকদল।
এদিন বৈঠকে তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিও ক্লিপ দেখানো হয়। দেখা যায়, দলীয় সভায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Shuvendu Adhikari) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করছেন। এবং একটি বইয়ের কথা উল্লেখ করে অভিষেকের পরিবার নিয়ে খোঁচা দিচ্ছেন। শুভেন্দুকে বলতে শোনা যায়, ‘২০১১ সালের পর উড়ে এসে জুড়ে বসা কয়লা তোলাবাজ ভাইপো। ওর একটাই পরিচয় পিসির ভাইপো।’ এরপরই অভিষেকের পিতৃ পরিচয় বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন শুভেন্দু।
বিষয়টিতে শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন,‘আমরা ক্ষুব্ধ এবং অপমানিত। কিছু শালীনতা, ভদ্রতা থাকে। সম্পর্কের একটা পবিত্রতা থাকে। যিনি এই উক্তিগুলো করছেন তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। ভিন্নমত থাকতেই পারে। এটা রাজনীতি নয়। অভিষেকের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর ওই অপমানের জবাব দিতে হবে। এতটা মানসিক বিকৃতি কীভাবে হতে পারে। তিনি রাজনীতিতে জায়গা করে উঠতে পারছেন না। যাঁরা হাততালি দিচ্ছেন। আজ তাঁদেরও আমরা ধিক্কার জানাই।’
তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বিষয়টির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ব্যাক্তিগত আক্রমণ কেন। বয়সে তো অনেক ছোট। উন্নয়নের প্রতিযোগিতা হোক। তরুণ নেতার বাবা নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। এটা তো তাঁর মাকেও অপমান। এটা অসভ্যতা।’ কুণাল প্রশ্ন তোলেন, ‘শুভেন্দুর ওই কথা দীলিপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা কী সমর্থন করেন। ব্যাক্তিগত আক্রমণের রসদ বা উপাদান আমাদের কাছে কম নেই। সবসময় ইস্যু থেকে সরে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা। পরে আমাদের কেউ দোষ দেবেন না। আমরা মুখ খুলে ফেললে, তখন কিন্তু কেউ নীতিকথা শেখাতে আসবেন না।’
তবে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য, এই কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু করেছে তৃণমূল। কুণাল ঘোষ যেভাবে শুভেন্দুকে আক্রমণ করেছেন, তা কোনও সভ্য রাজনীতিকের ভাষা নয়। অভিষেকও শুভেন্দুকে নবান্ন অভিযান নিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন। এমনকি বিধানসভাতেও তৃণমূলের তরফে পোস্টার বানিয়ে শুভেন্দুকে আক্রমণ করা হয়।