রফিকুল জামাদার
কোভিডের তৃতীয় ঢেউ আসন্ন বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর থেকে বাঁচতে রাজ্যের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন দেখলেন মুখ্যসচিব হরেকৃষ্ণ দ্বিবেদী ও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ নিগম। স্বাস্থ্য ভবনে তাঁদের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয় শুক্রবার রাতে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক ও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বৈঠক হয়েছে আজ। বৈঠক শেষে জানানো হয়েছে, রাজ্যের বস্তি এলাকাগুলিতে টিকাকরণের গতি কম। সেসব জায়গায় কোভিড বিধিও মানা হচ্ছে না। এই ব্যাপারে জেলাশাসকদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন মুখ্যসচিব।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রাণঘাতী রূপ দেখেছে গোটা দেশ। এ রাজ্যেও দ্বিতীয় ডেউয়ে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়েছিল। রাজ্যে এখন কোভিড গ্রাফ নিম্নমুখী হলেও বিধিনিষেধের রাশ আলগা করতে চায় না রাজ্য সরকার। আর যেখানে কোভিডের তৃতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে নিয়মের বাঁধন আরও কড়া করার কথাই ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যভবনে আজ কোভিড পর্যালোচনা বৈঠকের পরে জানা গেছে, মাস্ক পরা ও সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে মাস্ক ছাড়া বা সঠিকভাবে মাস্ক না পরে ঘুরতে দেখলে মোটা অঙ্কের টাকা ফাইন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। সেই সঙ্গে টিকাকরণের গতি বাড়ানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত জেলার বস্তি এলাকাগুলিতে টিকাকরণ এখনও সেভাবে হয়নি। গোটা রাজ্যের বস্তি এলাকাগুলিতে মাত্র ২৭ শতাংশ টিকাকরণ হয়েছে।
পশ্চিম বর্ধমানের মোট বস্তি এলাকার ১১ শতাংশে হয়েছে টিকাকরণ, উত্তর ২৪ পরগণার ১৫ শতাংশে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২৩ শতাংশে, মুর্শিদাবাদের ১৮ শতাংশে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের যথাক্রমে ২৩ ও ১৯ শতাংশে, পূর্ব বর্ধমানের ২০ শতাংশে, কলকাতার ২১ শতাংশে, হাওড়ার ২৬ শতাংশে ও জলপাইগুড়ির ২৪ শতাংশে হয়েছে টিকাকরণ। সেদিক থেকে ঝাড়গ্রামের বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি প্রায় ৮২ শতাংশ টিকাকরণ হয়েছে।
কোভিডের তৃতীয় ঢেউ সামলাতে
বিভিন্ন জেলার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে।
ফেস-মাস্ক বাধ্যতামূলক। যে কোনও রকম ভিড়, জমায়েত নিয়ন্ত্রণের জন্য নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে দ্রুত। মাস্ক না পারলে ফাইন দিতে হবে।
লকডাউনের রাশ শিথিল হওয়ার পরেই পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় বেড়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলিতে কোভিডের বিধিনিষেধ বাড়ানো হচ্ছে। দিঘা, দার্জিলিং ইত্যাদি পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল বা হোম স্টে-তে কোভিড বিধি আরও কড়া করা হবে।
কোভিডে মৃত্যু হলে কী কারণে হয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে হবে। মৃত্যুহার কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
বাজার কমিটিগুলিতে কোভিড সচেতনতার কাজে লাগাতে হবে। আইসিডিএস ও এসএইচজি মহিলা কর্মীদের সচেতনতার প্রচারের কাজে নিয়োগ করতে হবে।
কোভিড সচেতনতার জন্য চেম্বার অব কমার্সের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভলান্টিয়ারদের দিয়ে সাধারণ মানুষকে কোভিড গাইডলাইনের গুরুত্ব বোঝাতে হবে।