রাজীবকে তুলোধনা সৌমিত্রর, 'ভোটে হারার পর মনে পড়ল?'
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরে বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তির অন্ত নেই। বাঁকুড়া জেলা বিজেপির একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সাংসদের বেরিয়ে আসা, দিলীপ ঘোষের বৈঠকে তাঁর না যাওয়া নিয়ে বিতর্
শেষ আপডেট: 8 June 2021 17:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত কয়েকদিন ধরে বিষ্ণুপুরের সাংসদ তথা যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে নিয়ে বিজেপির অন্দরে অস্বস্তির অন্ত নেই। বাঁকুড়া জেলা বিজেপির একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সাংসদের বেরিয়ে আসা, দিলীপ ঘোষের বৈঠকে তাঁর না যাওয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। তাহলে কি স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁয়ের টানে তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন সৌমিত্র?
কালকেই সৌমিত্র বলেছিলেন এসব জল্পনা মিথ্যে। তিনি বিজেপিতেই আছেন। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে কার্যত ফুলটস বল হিসেবে নিলেন সৌমিত্র।
এদিনের রাজীবের টুইটের স্ক্রিনশট দিয়ে জোড়া টুইট করেছেন সৌমিত্র। তিনি লিখেছেন, "৪২ হাজার ভোটে হারার পর মনে পড়ল? বিজেপির ৪২ জনের বেশি কর্মীরা মারা গেছে,তখন চুপ থাকা মানে শাসকদলকে সমর্থন করা। মোদী সরকার করোনার জন্য ফ্রি তে ভ্যাকসিন,অক্সিজেন ও সব রকম সাহায্য করছে। আর ইয়াস ঘূর্নিঝড়ের জন্য মোদীজি নিজে এসেছেন। ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে রাজ্যেকে।"
https://twitter.com/KhanSaumitra/status/1402260303824445454
এরপর?
সৌমিত্র লিখেছেন, "আরও যা যা ক্ষতি হয়েছে তা কেন্দ্রীয় সরকার সাহায্য করবে। আমরা বিরোধী দল আমরা সরকারের গঠন মূলক কাজে সাহায্য করব। ভুল হলে পথে নামব৷ আপনি নীরব না থেকে বিজেপির কর্মীদের পাশে থাকলে ভাল হয়। না হলে গাড়ির পিছনে যে ছবিটা আছে সেটা আবার সামনের সিটে নিয়ে আসুন।"

মনে পড়ে রাজীবের বিধায়ক হিসেবে ইস্তফা দেওয়ার কথা। বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় তাঁর হাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। তারপর ভোটপর্বে মমতা যেমন রাজীবের উদ্দেশে গদ্দার, বেইমান বলে আক্রমণ শানিয়েছেন, বনসহায়ক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তেমন রাজীবও পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: শুভেন্দুর খোলাখুলি বিরোধিতায় রাজীব, মমতার সমালোচনা করায় আপত্তি পরাজিত বিজেপি সৈনিকের
তবে অনেকের মতে মমতার ছবি হাতে বিধানসভা থেকে বেরোনোর ফ্রেমেই অনেক কিছু লেখা ছিল। এদিন সৌমিত্র সেটাকেই কটাক্ষ করতে চেয়েছেন।
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যখন দিল্লি থেকে বাংলার আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথা বলছেন এবং দাবি করছেন রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্য যে পরিস্থিতি হয় তার চেয়ে খারাপ অবস্থা বাংলায়। তারপর রাজীব সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের ও মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করতে গিয়ে, কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে মানুষ ভাল ভাবে নেবে না”। বরং রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন রাজীব।
অনেকের মতে, রাজীব যেমন এই বক্তব্যের মাধ্যমে তৃণমূলকে সঙ্কেত পাঠাতে চেয়েছেন তেমন সৌমিত্রও পাল্টা তোপ দেগে বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি বিজেপি অনুগতই।