দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উনিশের লোকসভায় চাই বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশটাই। আর হাতের বাইরে থাকা জমিতে জোড়া ফুল ফোটাতে দায়িত্ব দিয়েছেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পুরোধা নেতা তথা রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। আর তিনিও যেন পণ করে নিয়েছেন মুর্শিদাবাদের কংগ্রেসের গড় ভেঙেই ছাড়বেন। আগেই চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বহরমপুর থেকে অধীরকে হারাবেনই। শনিবার অধীর চৌধুরীর গড় সালারে দাঁড়িয়ে ফের একবার সে কথাই বললেন শুভেন্দু।
গত এক মাসে মুর্শিদাবাদে হাফ ডজন সভা করে ফেলেছেন শুভেন্দু। এ দিন সালার বাস স্ট্যান্ডের ভিড়ে ঠাসা সমাবেশ থেকে কাঁথির ভূমিপুত্র, অধীর চৌধুরীকে মীরজাফর বলে তোপ দাগেন। বলেন, “এই লোকটা রাজনীতি শুরু করেছিলেন নকশাল থেকে। তারপর ফরওয়ার্ডব্লক, আরএসপি, সিপিএম হয়ে মান্নান হোসেনের হাত ধরে কংগ্রেসে ঠাঁই পেয়েছিলেন। প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেস নেতা প্রয়াত অতীশ সিনহা, মায়ারানি পাল, মান্নান হোসেন, সবার সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছেন। ২০১১ সালের ভোটে জোট হওয়ার পরও, গোপনে মান্নান হোসেনের পুত্র সৌমিক হোসেনকে হারাতে ময়দানে নেমেছিলেন। এমনকী নিজের স্ত্রীর সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ওঁকে কেউ বিশ্বাস করবেন না। যে ভাবেই হোক ওঁকে হারাতেই হবে।”
মুর্শিদাবাদের তিনটি লোকসভা আসনের মধ্যে তিনটিই তৃণমূলের হারা আসন। দুটিতে কংগ্রেস এবং একটিতে সিপিএম। বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ করতে হলে এই জেলা যে অন্যতম ‘প্রায়োরিটি’র তা বুঝেই শুভেন্দুকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন দিদি। পুজোর পর থেকেই হাজারদুয়ারির জেলায় যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন সাংসদ। আগেও অধীর-বিজেপি যোগের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এ দিনও সালারের সভা থেকে বলেন, “তিন রাজ্যে বিজেপি-র হারে খুশি হননি অধীর চৌধুরী। কারণ বিজেপি জিতলে লোকসভার আগেই তিনি বিজেপি-তে ঝাঁপ দিতেন।”
ব্রিগেডের প্রচার সভা ছিল এ দিন। শুভেন্দুর সঙ্গেই উপস্থিত ছিলেন সিপিএম থেকে তৃণমূলে যাওয়া প্রাক্তন সাংসদ মইনুল হাসান, বিধায়ক আবু তাহের,ডোমকলের পুরপিতা সৌমিক হোসেন,জেলা তৃণমুলের চেয়ারম্যান মহম্মদ সোহরাব, শ্রম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন প্রমুখ। ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের সমাবেশে জেলা থেকে যাতে ২-৩ লক্ষ লোক জমায়েত হয় তার আহ্বান জানান মুর্শিদাবাদের পর্যবেক্ষক।
শুভেন্দুর বক্তৃতার পরিপ্রেক্ষিতে অধীর চৌধুরীর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।