দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। মস্তিষ্ক ঠিকভাবে সাড়া দিচ্ছে না তাঁর। আর তার ফলে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সৌমিত্রবাবুকে। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে অন্য কিছু উপায় নেই চিকিৎসকদের কাছে।
বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসকদের যে বোর্ডের আওতায় সৌমিত্রবাবুকে রাখা হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান চিকিৎসক অরিন্দম কর জানিয়েছেন, মেডিক্যাল বোর্ডের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই মুহূর্তে ইনভেসিভ সাপোর্ট দেওয়া হবে সৌমিত্রবাবুকে। অবশ্য তার আগে স্নায়ু ও কিডনি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। সব পরামর্শ নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত দু’দিন ধরে সৌমিত্র চট্টোপাধায়ের মস্তিষ্কের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতার অনেক অবনতি হয়েছে। সেটাই এখন সবথেকে বেশি চিন্তার কারণ। কোভিড এনসেফেলোপ্যাথি বাড়ছে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের। চেতনাও কমে আসছে মাঝেমাঝে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, স্টেরয়েড ও অন্যান্য চেষ্টা সত্ত্বেও সৌমিত্রবাবু চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন না। এটা উদ্বেগের।
এছাড়া সৌমিত্রবাবুর প্লেটলেট বেশ কমে গেছে। একইসঙ্গে তাঁর রক্তে ইউরিয়া ও সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। প্লেটলেট বাড়ানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। যদিও তাঁর সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকমতো কাজ করছে। শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের মাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনের থেকে বেশি অক্সিজেন দিতে হচ্ছে না অভিনেতাকে।
গত ২০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন সৌমিত্রবাবু। তার মধ্যে ১৭ দিন ধরে আইসিইউ সিস্টেমের মধ্যে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর প্লাজমাফেরেসিস অর্থাৎ শরীরে প্লাজমা পরিবর্তন করে নতুন প্লাজমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেশ কয়েক দিন ধরে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাৎ করেই মস্তিষ্কের স্নায়ুজনিত সমস্যা দেখা দেয় অভিনেতার। ফের একবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। এসবের পাশাপাশি সৌমিত্রবাবুর বয়স এবং কোমর্বিডিটি নিয়ে দুশ্চিন্তা তো আছেই। এই বিষয়ে দেশের অনেক বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিয়েছেন বেলভিউ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এমনকি বিদেশেও অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।