দ্য ওয়াল ব্যুরো: রঙের উৎসবে ফের গেরুয়া-জল্পনা উস্কে দিলেন বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত। সল্টলেকের মাড়োয়ারি সমাজের দোল উৎসবে যোগ দিয়ে মেয়র তথা রাজার হাটের বিধায়কের গলায় শোনা গেল, “জয় ভারত। ভারত মাতা কী জয়!”
শুধু ভারত মাতা কী জয় জয় নয়। সব্যাসাচী এ দিন বলেন, “মেয়র থাকলাম কি থাকলাম না, বিধায়ক থাকলাম কি থাকলাম না বড় কথা নয়। আমি মানুষের মধ্যে থাকতে চাই।” মাথায় গোলাপি পাগরি বেঁধে, গালে আবির মেখে সব্যসাচী এ দিন আরও বলেন, “পুলওয়ামায় অনেক জওয়ান মারা গিয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে আজ শুধুই চোখের জল। ওঁদের জন্যই আজ আমাদের সোচ্চারে বলতে হবে, যদি ভারত না বাঁচে, তাহলে আমরা কেউ বাঁচব না।”
হোলির উৎসবে কেন এ সব কথা এলো ব্যাখ্যা দেননি সব্যসাচী। তবে বাংলা রাজনীতির অনেকে নানান অর্থ বের করছেন। অধিকাংশের মতে, আবহ সঙ্গীত গাওয়া শুরু করেছেন। তিনি বিজেপি-তে যোগ দিলে বিধাননগরের মেয়র পদ অচিরে ছাড়তে হবে। কিন্তু তার পরেও যে তিনি বিধাননগরের মানুষের মাঝে থেকে রাজনৈতিক আন্দোলন চালাবেন,তাঁদের এখনকার মতো পাশে পেতে চাইবেন, একে তো সেই ইঙ্গিত রইল। দ্বিতীয়ত, ইদানীং যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যাচ্ছেন, তাঁদের বড় 'অজুহাত' হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়ে যা যা বলছেন, তাতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সব্যসাচী এ দিন যেভাবে ভারত মাতার স্লোগান তুলেছেন তাতেও তেমনই একটা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এই আবহ সঙ্গীতের আগেও এক প্রস্ত নাটক হয়েছে। বড় মা বীণাপাণিদেবীর শেষকৃত্য হয়েছে সে দিন। একটা শুক্রবার। সব্যাসাচী তখন ঠাকুরনগর থেকে বিধাননগরের পথে। হঠাৎ তাঁর ফোনে মুকুল রায়ের ফোন। ‘আমি দাদা বলছি। কোথায় তুই! আমি সল্টলেক এসেছি। তোর বাড়িতে যাচ্ছি।” তারপর লুচি, আলুর দমের গল্প সকলেরই প্রায় জানা। জল্পনা তুঙ্গে উঠেছিল বাংলার রাজনীতিতে। তাহলে সব্যসাচী দত্ত কি এ বার ঘাসফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে? তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছিল শাসক দলে।
এর এক দিন পরেই বিধাননগরের কাউন্সিলরদের নিয়ে সুজিত বসুর শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে বৈঠক ডাকেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী। সব্যসাচী গিয়ে সেই বৈঠকে ক্ষমা চেয়ে নেন। বেরিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ববি হাকিমদের পাশে দাঁড় করিয়ে সব্যসাচী বলেন, “কেউ যদি বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে বলেন, ইন্দ্রানী লুচি আলুরদম বানাও। তাহলে তো আমি না ভদ্রতার খাতিরে না করতে পারি না।” ববি হাকিম সাংবাদমাধ্যমকে বলেন, "বিনা নেমন্তন্নে সব্যসাচীর বাড়িতে ঢুকে পড়েছিলেন মুকুল রায়।" প্রাথমিক ভাবে দিদিও চটেছিলেন সব্যসাচীর উপর। কিন্তু শেষপর্ন্ত তাঁকেই মেয়র রেখে দেন। কিন্তু এ দিনের কথা শোনার পর অনেকেই বলছেন, গেরুয়া শিবিরে যাওয়া শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা।
দু’দিন আগেই ইন্টারন্যাশনাল মাড়োয়ারি ফেডারেশনের হোলির অনুষ্ঠানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহদের বিঁধেছিলেন। জাতীয়বাদের জিগির তুলে যে বিজেপি গোটা দেশে মেরুকরণের রাজনীতি করছে, ঠারেঠোরে সেই অভিযোগই তুলেছিলেন মমতা। কিন্তু এখনও তৃণমূল নেতা সব্যসাচীর গলায় শোনা গেল সেই জাতীয়বাদী স্লোগান। আর যা শুনে অনেকেই বলছেন, রঙের উৎসবে রঙ বদলের সুর গেয়ে রাখলেন সব্যসাচী।