দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারের পর শনিবারও ছবিটা বদলাল না। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বিদ্যুৎহীন। তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে পানীয় জলের। সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অবরোধ করেন স্থানীয় মানুষ। উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়, হাওড়ার চ্যাটার্জি হাট থেকে হুগলির উত্তরপাড়া-- জল ও বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন নাগরিকরা।
বিদ্যুতের দাবিতে টিটাগড় ব্রহ্মস্থানের স্থানীয় জনগণ পথ অবরোধ করে শনিবার সকালে। অবরোধ তুলতে গিয়ে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর পরেই রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ইটবৃষ্টি ভাঙচুর করা হয় রাস্তা দিয়ে চলা বেশ কয়েকটি লরিতে। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় একটি খড় বোঝাই ট্রাকে। দমকলের তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাওড়ার চ্যাটার্জি হাটেও বিদ্যুতের দাবিতে নাগরিকদের অবরোধ ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ তুলতে গেলে বচসা শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। উমফানের ধাক্কায় হাওড়া শহরে বিস্তীর্ন এলাকায় পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ। দুর্ভোগে পুর এলাকার বাসিন্দারা। একে বিভিন্ন এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ আসেনি, তারউপর জল না পেয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে। পুর নিগম সূত্রে বলা হয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে পদ্মপুকুর জল প্রকল্প।জল সরবরাহের বিভিন্ন মেশিন জলের তলায়। জমা জল সরিয়ে সেগুলো মেরামতির কাজ চলছে।শনিবার রাতের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মুশকিল বলে জানিয়েছেন পুরকর্তারা।
অন্যদিকে হুগলিতেও ছবিটা এক। এদিন সকালে উত্তর-কোতরং পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে স্টেশন অবরোধ করেন স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের বক্তব্য, পুরসভার কোনও নড়াচড়াই দেখা যাচ্ছে না। বাড়ির মহিলারাও জলের দাবিতে নেমে আসেন রাস্তায়। সব মিলিয়ে উমফান চলে যাওয়ার পর ৬২ ঘণ্টা পেরোতে চললেও জেলায় জেলায় দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন মানুষজন। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ তো বটেই। সিইএসসির লোকজনকেও পাওয়া যাচ্ছে না। এখনও বহু জায়গায় গাছ পড়ে রয়েছে তা সরানো যায়নি।
ছবি: উত্তরপাড়ার অবরোধ