দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের পরে যত দিন যাচ্ছে ততই আকাল বাড়ছে আনাজের। উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়া, মিনাখাঁ হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর ও বসিরহাটের বিভিন্ন জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে আনাজের ক্ষেত। ফলে উমফানের বাইশ দিনের মাথায় আনাজের দাম বেড়ে চার গুণ হয়েছে। স্থানীয় বাজারগুলিতে চালানি সবজি আমদানি করতে হচ্ছে বলেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
সবজি বিক্রেতা সঞ্জীবকুমার দাস বলেন, “ঘূর্ণিঝড় উমফানের তাণ্ডবে সবজির ক্ষেত একেবারে শেষ হয়ে গেছে। সেই জন্যই বাইরে থেকে আমদানি করা সবজি আসছে বাজারে।” গোলাম শেখ নামে এক চাষি বলেন, “আমাদের চাষ করা সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বেগুন, পটল, ওল, পেঁপে প্রভৃতির। এসব পচে গেছে। মাঠের সবজি একেবারে শেষ। কী ভাবে মহাজনদের টাকা শোধ করব তা বুঝে উঠতে পারছি না আমরা। সংসার চালাতেই এখন আমাদের কালঘাম ছুটছে।”
সমস্যা হচ্ছে ক্রেতাদেরও। আলিমউদ্দিন শেখ নামে এক ক্রেতা বলেন, “যে জিনিস এক কেজি দরকার সেটি পাঁচশো গ্রাম কিনতেও দাম দিতে হচ্ছে এক কেজির দামের চেয়েও বেশি। লকডাউনের ফলে অনেকে কাজ হারিয়েছেন। কাজ থাকলেও অনেকের বেতন কমেছে। ফলে বাজারদর বেড়ে যাওয়ায় সকলেরই সমস্যা হচ্ছে।” এখন অনেকেরই সঞ্চিত টাকায় হাত পড়তে শুরু করেছে।
বিভিন্ন বাজারে আলুর দাম কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে এখন প্রতি কেজির দাম হয়েছে চব্বিশ টাকা। ঝিঙেও কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে চব্বিশ টাকা প্রতি কেজি। গাঁটি কচুর দর প্রতি কেজি পঁচিশ টাকা থেকে বেড়ে পঁয়ত্রিশ থেকে চল্লিশ টাকা হয়েছে। কাঁচকলার কেজি প্রতি ছিল কুড়ি টাকা এখন তা বেড়ে তিরিশ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ পনেরো টাকা থেকে বেড়ে পঁচিশ টাকা হয়েছে। ঢেঁড়সের দাম কেজি প্রতি কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে চল্লিশ টাকা হয়েছে। কুমড়োর দাম দশ টাকা কেজি থেকে বেড়ে কুড়ি টাকা হয়েছে। কেজি প্রতি শসার দাম পনেরো টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে চল্লিশ টাকা। বরবটি ও লাফা পনেরো টাকা থেকে বেড়ে তিরিশ টাকা হয়েছে। সজনে ডাঁটার দাম কদিন আগও ছিল কেজি প্রতি ষাট টাকা এখন তা বেড়ে হয়েছে কেজি প্রতি একশো টাকা। বেগুন কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে পঞ্চাশ টাকা, ফুলকপি প্রতিটির দাম কুড়ি টাকা থেকে বেড়ে চল্লিশ টাকা হয়েছে। বাঁধাকপির দাম অবশ্য একই আছে – চল্লিশ টাকা কেজি। কাঁচা লঙ্কার দাম দ্বিগুণ বেড়ে চল্লিশ টাকা হয়েছে।
বসিরহাট মহকুমার হাড়োয়া মিনাখাঁ-সহ বিভিন্ন ব্লকে বেশ কিছু সবজি চাষ হয়। সেই সবজি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা, কলকাতা এমনকি রাজ্যের বাইরেও রফতানি করা হয়। তবে এখন রফতানি দূরের কথা স্থানীয় বাজারেও তা জোগান দেওয়া যাচ্ছে না।