দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়াকেন্দ্রিক প্রায় কোনও বেসরকারি বাস ও মিনিবাস স্যানিটাইজ করাই হচ্ছে না। অন্য কেউ নন এমন অভিযোগ তুলেছেন চালক ও কন্ডাক্টররা। সেই অভিযোগ মানছেন বাসমালিকরা। আনলক পর্বে গণপরিবহণ চালু হয়। তখনই বলা হয়েছিল করোনার সংক্রমণ রুখতে নিয়মিত ভাবে বাস স্যানিটাইজ করতে হবে।
বাসে পঞ্চাশ শতাংশ যাত্রী নেওয়ার যে নিয়ম তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। তার উপরে বাস স্যানিটাইজ না করা হলে সংক্রমণ আরও বেশি করে ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যেক দিন হাওড়া শহর এবং কলকাতার মধ্যে কয়েক হাজার যাত্রীবাহী বাস যাতায়াত করে। যাতায়াত করেন বহু যাত্রী। তাঁরা সকলেই আশঙ্কায়। করোনা সংক্রমণের নিরিখে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার পরেই রয়েছে হাওড়া।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেকটি বাস এক বার করে ‘ট্রিপ’ করার পরে সেটিকে জীবাণুনাশক দিয়ে ধুতে হবে। কার্যক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। বাসের চালক ও কন্ডাক্টরদের অভিযোগ মেনে নিয়েছেন বাস মালিকদের সংগঠনও। একই সঙ্গে তাঁরা জানিয়েছেন কেন তাঁরা সরকারি নির্দেশিকা মানতে পারছেন না।
বাস মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসে যাত্রী কম হওয়ায় তাঁদের আয় অনেক কমে গেছে। এ জন্য মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার প্রভৃতি কেনা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। সেই কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস কর্মীদের কাজ করে যেতে হচ্ছে। তাঁরা জানিয়েছেন, এই জন্য কোনও কোনও বাস দিনে একবার স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। অনেক বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে তাও করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে এর ফলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই উদ্বেগে যাত্রীরাও কিন্তু অন্য উপায় না থাকার ফলে ঝুঁকি নিয়েই চড়তে হচ্ছে বাসে। সরকারি নির্দেশে বাস চললেও করোনা সংক্রমণ রোখার কোনও ব্যবস্থা থাকে কার্যত নেই।
সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী হাওড়া জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা চার হাজার পাঁচশো তিয়াত্তর। এই রোগে মৃত্যু হয়েছে একশো আটত্রিশ জনের। বর্তমানে জেলায় করোনা পজিটিভের সংখ্যা এক হাজার চারশো পঞ্চান্ন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন দুহাজার নশো আশি জন। হাওড়ার জেলাশাসকের এক নিরাপত্তারক্ষী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর বাংলোর এক গাড়ির চালকও করোনায় আক্রান্ত। হাওড়া পুর নিগমের দুই আধিকারিক ও বেশ কয়েক জন কর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।