দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুকুল রায় যখন বিজেপি ছাড়ছেন, অন্যদিকে তখন দলত্যাগের কথা ঘোষণা করে দিলেন ‘মুকুল ঘনিষ্ঠ’ বিজেপি নেতা। মুকুল রায়ের দলত্যাগের দিনেই চিঠি দিয়ে বিজেপি ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন বনগাঁ জেলার বিজেপি সহ-সভাপতি তপন সিনহা। দলত্যাগের কারণ হিসেবে চিঠিতে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথাই উল্লেখ করেছেন তপনবাবু। কিন্তু বিজেপি ছেড়ে তিনি তৃণমূলে আসছেন কিনা সেটা স্পষ্ট ভাবে বলেননি। ‘ভবিষ্যতে দেখা যাবে’ বলে জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন।
মুকুল রায় বিজেপি ছাড়তেই দলের অন্দরে কার্যত তোলপাড় পড়ে গেছে। একে একে মুখ খুলতে শুরু করেছেন নেতা-নেত্রীরা। শুক্রবার বিকেল ৪টে নাগাদ তৃণমূল ভবনে মুকুল রায়ের ঘরওয়াপসির পরেই কার্যত দলত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন বনগাঁর বিজেপি সহ-সভাপতি তপন সিনহা। ঘরে বসেই ভিডিও বার্তায় তপনবাবু বলেছেন, “আমার বয়স হয়েছে। অনেকদিন ধরেই অসুস্থ। তাছাড়া দলের হয়ে কাজ করতে পারছিলাম না। সে কারণেই পদত্যাগ করলাম।”
তপনবাবুর বক্তব্য, একেই বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাছাড়া দলের অনুশাসন ও নিয়মনীতি মেনে সবক্ষেত্রে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না তাঁর পক্ষে। তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে মুকুল রায়ের সঙ্গেই বিজেপিতে ছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচী সবসময় তাঁদের জানানো হত না। এর পরেও ভাল কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শরীরের কারণে আর সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতের কথা পরে ভাবা যাবে বলে জানিয়েছেন তপনবাবু।
একেই ভোটে ভরাডুবি। তার ওপর মুকুল রায়ের দলত্যাগের পরে সামনে চলে এসেছে দলের অন্দরের ফাটল। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মুকুলবাবুর দলত্যাগের দিনে বনগাঁয় দলের সাংগঠনিক বৈঠক করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু সেই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বনগাঁ লোকসভার বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর, গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর,বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবুর বক্তব্য, দলের অনেক কর্মী ক্ষতিগ্রস্থ। ওঁরা তাঁদের পাশে রয়েছেন, সেবামূলক কাজ করছেন।
বস্তুত, বিধানসভা ভোটে বনগাঁতে ভাল ফল করেছে বিজেপি। বনগাঁ লোকসভার ৭টি আসনের মধ্যে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে গেরুয়া শিবির। তার পরেও কেন দলে এ রকম ভাঙন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।