দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় ব্লকে চারটি ইটভাঁটায় কাজ করা ভিন জেলার শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো হল বৃহস্পতিবার। তাঁদের ফেরাতে উদ্যোগী হন ইটভাঁটার মালিকরা। সহায়তা করে শক্তিগড় থানার পুলিশ ও ব্লক স্বাস্থ্য দফতর। মরসুম শেষ হয়ে গেলেও তাঁরা আটকে ছিলেন বিভিন্ন ইটভাঁটায়। লকডাউনের জেরে গণ পরিবহণ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারছিলেন না।
প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন ইটভাঁটায় রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকে শ্রমিকরা আসেন দুর্গাপুজোর সময় – হয় কিছু দিন আগে না হয় পুজো মিটলে। ইঁট তৈরির মরসুম শেষ হয় বৈশাখ বা জ্যৈষ্ঠ মাসে অর্থাৎ বর্ষা পড়ার বেশ কিছু দিন আগে। তখন সপরিবারে আসা শ্রমিকরা যে যাঁর বাড়িতে ফিরে যান। প্রতিবছরের রুটিন এটাই।
ইটভাঁটার শ্রমিকরা মাস ছয়েক ধরে পরিবার নিয়ে মালিকের আস্তানায় বসবাস করেন। ইটভাঁটার বিভিন্ন বিভাগে তাঁরা দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করেন তাঁরা – কেউ বাঁকিদার, কেউ রেজা, কেউ পাতেরা, কেউ ফায়ার ম্যান আবার কেউ লোডারের কাজ করেন। এখানে পুরুষ ও মহিলা – সব শ্রমিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক সঙ্গে কাজ করেন। কিছুদিন হল কাজ নেই কিন্তু লকডাউনের ফলে বাড়িতে ফিরতে পারছিলেন না। ফলে ভীষণ সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলেন এই শ্রমিকরা।
জেলার বাইরে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমিকদের খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন মালিকরা। শ্রমিকদের নিজেদের বাড়িতে ফেরানোর ব্যাপারে এখন প্রশাসনের অনুমতি মিলছে। তাই পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ইটভাঁটার মালিকরা।
ইটভাঁটার শ্রমিক পরিবারগুলি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শক্তিগড় বিডিও অফিসের পাশে উৎসব ময়দানে হাজির হন। একে একে তাঁদের সকলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তাঁরা কেউ যাবেন বীরভূম, কেউ পুরুলিয়া আবার কেউ দক্ষিণ দিনাজপুর। দেড়শো জন শ্রমিককে নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয় চারটি লাক্সারি বাস। বাস চলতে শুরু করতেই বাড়ি ফেরার আনন্দে মেতে হয়ে উঠেন শ্রমিকরা।
বর্ধমান সদর ব্রিক ফিল্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক আরশাদ হোসেন বলেন, “লকডাউনের ফলে ইঁটভাটা বন্ধ ছিল। তখন মালিকপক্ষ এই সব আটকে পড়া শ্রমিকদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ (বৃহস্পতিবার) আমরা বাস ভাড়া করে শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করলাম।”