
শেষ আপডেট: 28 January 2019 13:43
সূত্রের খবর, ডালু বাবু সে দিনই তৃণমূলের ওই শীর্ষ নেতাকে বলেছিলেন, লোকসভা ভোটে যদি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হয় তা হলে আমাদের তৃণমূলে নিয়ে নিন। আমি আর মৌসম দু’জনেই যেতে চাই তৃণমূলে। সেই শুরু। পরে তৃণমূলের তরফে মালদহের পর্যবেক্ষক তথা পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মৌসম।
তখনই পাকা কথা হয়েছিল। সোমবার শুভেন্দুর সঙ্গে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন উত্তর মালদহের কংগ্রেস সাংসদ মৌসম বেনজির নুর। তার পর বেনজির ভাবেই রাজ্য সচিবালয়ের অলিন্দে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করে দিলেন দল বদলের কথা। বললেন,“আজ থেকে দিদির নেতৃত্বে কাজ করব। উনিই আমাদের ফেস। বিজেপি-র অশুভ ইনটেনশন রয়েছে। বাঙালি হিসেবে চাইব দিদিই প্রধানমন্ত্রী হোন।”
প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিজেপি-র অশুভ ইনটেনশন রয়েছে তো কংগ্রেস কেন ছাড়লেন মৌসম? এর ব্যাখ্যা মৌসম দেননি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, ওঁদের আশঙ্কা রয়েছে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রার্থী হলে মামা তথা প্রয়াত গনিখান চৌধুরীর রাজনৈতিক মাটি আর ধরে রাখতে হয়তো পারবেন না মৌসম। সংখ্যালঘু ভোট তৃণমূলে চলে যাবে। এবং ডাহা হারবেন তিনি। কিন্তু তৃণমূলে গেলে তিনি ফের নির্বাচিত হতে পারেন এবং তাঁর সাংসদ পদ বেঁচে যেতে পারে। এই আশাতেই দল ছেড়েছেন বরকত সাহেবের ভাগ্নি।
মমতা ও শুভেন্দুর পাশে দাঁড়িয়ে স্বভাবসুলভ ভাবে শান্ত মৌসম এ দিন যখন দলবদলের কথা ঘোষণা করেন, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে ডালুবাবুর প্রসঙ্গে? তিনি কবে যোগ দেবেন তৃণমূলে?
গত বছর ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগে তৃণমূল মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাকতলার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন ডালুবাবু। এবং মজার ঘটনা হল, পার্থবাবু তখন আবার সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ডেকে নিয়েছিলেন। ফলে তখন অস্বস্তিতে পড়ে ব্যাপারটাকে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন ডালুবাবু। তা ছাড়া মৌসমদের অন্য অঙ্কও মাথায় ছিল। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে তৃণমূলে যোগ দিলে মালদহে তাঁদের আসনে লোকসভার উপ নির্বাচন হতো। তা এড়ানোর জন্যই তখন তৃণমূলে যোগ দেননি। এখন আর উপ ভোটের ব্যাপার নেই। সোজা লোকসভা ভোট।
https://www.youtube.com/watch?v=9cIOizYgkC8&feature=youtu.be
এ দিন মৌসমকে ডালুবাবুর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে,তিনি বলতে শুরু করেন, ওনার সঙ্গে কথা বলব..। তবে তাঁকে থামিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ও কী করে বলবে অন্যের কথা!”
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে মালদহে একটি আসনও জেতেনি তৃণমূল। বাংলায় কার্যত সুইপ করলেও একটি জেলায় একেবারেই গোল্লা পাওয়া তৃণমূলের পক্ষে অস্বস্তিকর ছিল বইকি। ফলে ভোটের পর প্রথম কোর কমিটির বৈঠকেই মালদহের দায়িত্ব শুভেন্দুকে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকে মালদহের দিকে আর তাকাতে হয়নি তৃণমূলনেত্রীকে। বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য, পুরসভার চেয়ারম্যান মায় কংগ্রেস ও সিপিএম ছেড়ে নেতারা তৃণমূলে যোগ দিতে শুরু করেন। জেলা সংগঠনে পারস্পরিক রেষারেষি ও সংঘাতও কড়া হাতে দমন করতে সফল হয়েছেন শুভেন্দু। ঐতিহাসিক ভাবে বরকত সাহেবের রাজনৈতিক জমিতে এখন কংগ্রেসের তুলনায় তৃণমূলের সংগঠন বহুগুণে মজবুত।
আরও পড়ুন: ইন্দিরার স্লোগান রাহুলের মুখে, ক্ষমতায় এলে গরিবের ন্যূনতম আয়ের গ্যারান্টি
এ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানান, মৌসমকে রাজ্যস্তরে সাধারণ সম্পাদক করা হবে। সেই সঙ্গে তাঁকে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ওই দুই জেলায় ও মালদহে প্রচার করবেন মৌসম।
বরকত সাহেবের ভাগ্নি দল ছাড়ার পর বিরোধী দলনেতা তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান এ দিন বলেন, বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পারল না মৌসম। রাহুল গান্ধী ওঁকে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী করেছিলেন। মর্যাদা দিয়েছিলেন। তা বেমালুম ভুলে মেরে দিল।
এখন কৌতূহল রয়ে গেল ডালুবাবুকে নিয়ে। তিনি এখন প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি। ডালুবাবু অবশ্য বলেন, তিনি এখন কংগ্রেসেই রয়েছেন। দল ছাড়ছেন না। তবে কতদিনের জন্য কংগ্রেসে রয়েছেন এখন সেটাই দেখার!
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-dalu-babu-not-leaving-congress-claims-somen-mitra/