
শেষ আপডেট: 8 February 2019 13:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সার্কিট বেঞ্চ অনুমোদন দেওয়ার পরে পরেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছিল। সার্কিট বেঞ্চ কার কৃতিত্ব, তা নিয়ে বাক যুদ্ধ শুরু হয়েছিল কেন্দ্র এবং রাজ্যের। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ময়নাগুড়িতে তা উদ্বোধন করে দেওয়ার পর সার্কিট বেঞ্চ যুদ্ধে আরও খানিকটা পারদ চড়ল।
বাগডোগরা থেকে ময়নাগুড়ির চূড়াভান্ডার মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমেই একটি কালো রেঞ্জ রোভার গাড়িতে উঠে পড়েন নরেন্দ্র মোদী। সেই গাড়ি চলে যায় বিজেপি সভা মঞ্চের কয়েকফুট দূরে অন্য একটি মঞ্চে। সেখান থেকেই জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর সভা মঞ্চে উঠে বলেন, “২০ বছরেরও আগে কলকাতা হাইকোর্ট সার্কিট বেঞ্চের ব্যাপারটা তুলেছিল। ১৩-১৪ বছর আগে ক্যাবিনেট অনুমোদনও দিয়েছিল। কিন্তু রূপায়িত হলো এখন। উত্তরবঙ্গের মানুষকে আর হাইকোর্টে মামলার জন্য কলকাতা যাওয়ার হ্যাপা পোয়াতে হবে না।”
মোদীর হেলিকপ্টার তখনও বোধহয় ফিরতি পথে বাগডোগরা পৌঁছয়নি। তার মধ্যেই নিউটাউন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সার্কিট বেঞ্চ নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তিনি বলেন, “যে ভাবে সার্কিট বেঞ্চের উদ্বোধন হয়েছে তা যুক্ত্রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কখনও হয় না। রাজ্যসরকার ছেড়ে দিন। হাইকোর্টের কেউ ছিলেন ওখানে?” মমতা আরও বলেন, “আমরা জমি দিয়েছি, ৩০০ কোটি টাকা খরচ করেছি, পরিকাঠামো গড়েছি আর উনি এসে উদ্বোধন করছেন। বর নেই, কনে নেই, উনি ব্যান্ডপার্টি বাজাতে চলে এলেন। গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল।”
সার্কিট বেঞ্চ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। উনিশের ভোটের আগে সেখানে জমি শক্ত করতে তাই উত্তরবঙ্গ সফরের আগেই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে পাশ করিয়েছিলেন মোদী। পরের দিন তাতে সিলমোহর দিয়ে দেন রাষ্ট্রপতিও। বিজেপি নেতারা মোদীর সভা শুরুর আগেই ঘোষণা করেন, “৩৫ বছর পর কোনও প্রধানমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে এলেন। তাও আবার খালি হাতে নয়। একাধিক প্রকল্প নিয়ে।”
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে সার্কিট বেঞ্চ প্রসঙ্গে মমতা হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “ওখানে ম্যান পাওয়ার নেই। মেনটেনেন্স নেই। উনি কে? আমি প্রধান বিচারপতিকেও চিঠি লিখব। সার্কিট বেঞ্চ কলকাতা হাইকোর্টের সন্তানের মতো। হাইকোর্টকেও জানানো হয়নি। এটা অপমানের।”
দিদি-মোদী কথার যুদ্ধে তাততে শুরু করেছে রাজনীতির চাটু। ভোটের আগে সরগরম বাংলা। সার্কিট বেঞ্চ থেকে চিটফান্ড, সরকারি প্রকল্প থেকে চা বাগান সব ইস্যুতেই কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত চরমে। হাওয়া কত গরম হয়, সেটাই দেখার।