দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের শহরে বেপরোয়া বাইকের শিকার হয়েছিলেন খোদ পুলিশকর্মী। হেলমেটহীন মোটরবাইক চালককে আটকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন এক কনস্টেবল। টেনে-হিঁচড়ে তাঁকে বেশ খানিকটা নিয়ে যায় ওই মোটরবাইক আরোহী। ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় অবশেষে পাকড়াও হয়েছে ওই অভিযুক্ত মোটরবাইক চালক। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম দানেশ্বর ঝা। সিসিটিভি ফুটেজ, ট্যাটু, হাতের ঘড়ি----এইসব দেখেই চিহ্নিত করা গিয়েছে ওই অভিযুক্তকে।
ঠিক কী হয়েছিল সেদিন?
ঘটনার সূত্রপাত ১ জুলাই, সোমবার। সে দিন রাতে কড়েয়া এলাকায় একটি শপিং মলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় এক বৃদ্ধকে ধাক্কা মারে তীব্র গতিতে আসা একটি মোটরবাইক। ঘটনা দেখতে পেয়ে আটকাতে যান ট্রাফিক গার্ডে থাকা পুলিশ কনস্টেবল তপন ওরাং। জানা গিয়েছে, সে সময় পুলিশ কনস্টেবলের ঘড়ির একটা অংশ ওই যুবকের মোটরবাইকে আটকে যায়। সেই অবস্থাতেই তপনবাবুকে বেশ খানিকটা হিঁচড়ে নিয়ে যায় ওই হেলমেটহীন মোটরবাইক চালক। তারপর রাস্তার উপরেই তাঁকে ফেলে পালিয়ে যায় ওই যুবক। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন ইস্ট ট্রাফিক গার্ডের ওই কনস্টেবল।
এই ঘটনার পরেই জোরকদমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত যুবক দানেশ্বর ঝা।
কী ভাবে ধরা পড়ল অভিযুক্ত?
পুলিশ জানিয়েছে, রাতের অন্ধকার থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে তাদের। তবে হাল ছাড়েনি কলকাতা পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজেই দেখা যায় ঘটনার দিন অত্যন্ত দামি কেটিএম মোটরবাইক চালাচ্ছিল অভিযুক্ত যুবক। এ ছাড়াও জানা যায় যে, ওই বাইকের চালকের হাতে ট্যাটু রয়েছে। এবং সে ডান হাতে ঘড়ি পড়ে।
এরপরেই তদন্ত নেমে পুলিশ জানতে পারে, কলকাতা শহরে ১৮০০-রও বেশি কেটিএম বাইক চলে। যার মধ্যে ১৮০টি কেটিএম বাইকের মালিক বেকবাগান অঞ্চলের বাসিন্দা। পুলিশ জানতে পারে, যে কেটিএম বাইকগুলি ওই এলাকায় চলে, তার মধ্যে একজন বাইক মালিক ঘটনার পরেই কলকাতা ছেড়ে চম্পট দেয়। এই তথ্য হাতে আসার পরেই পুলিস ডেটাবেস চেক করে, মিলিয়ে দেখা হয় সন্দেহভাজন ওই যুবকের মোবাইল নম্বর ও ফেসবুক প্রোফাইল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্তের নাম দানেশ্বর ঝা ওরফে সোনু স্টান্ট।
কিন্তু এসব তথ্য জোগাড়ের মাঝেই তদন্তকারী অফিসারদের কাছে খবর আসে যে অভিযুক্ত দানেশ্বর বেনারস পালিয়ে গিয়েছে। বেনারসে টিম পাঠিয়ে দানেশ্বরকে গ্রেফতারের ব্যবস্থা করে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় কলকাতায় ফিরে এসেছে দানেশ্বর। এরপরেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিস।