দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: গোষ্ঠী কোন্দল থামছেই না তৃণমূলে!
কয়েক দিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে তুলকালাম কাণ্ড বেঁধে গিয়েছিল। এবার উত্তরের হাসনাবাদ।
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল হাসনাবাদের ভেবিয়া বাজারে। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় তৃণমূল নেতা সৌমেন্দ্রনাথ পালের দোকানে বোমাবাজি করে একদল দুষ্কৃতী। সৌমেন্দ্রনাথবাবুর অভিযোগ, জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ ফিরোজ কামাল গাজির বাহিনীই তাঁকে হত্যা করার জন্য গতকাল হামলা চালিয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে রাত্রিবেলা ব্যাপক বোমাবাজি হয় ওই এলাকায়। ভেঙে দেওয়া হয় সিসিটিভিও। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সৌমেন্দ্রনাথবাবু আরও বলেন, ওই এলাকার প্রধান আগে সিপিএম করতেন। তাঁকেই মাথায় করে নাচছেন ফিরোজ গাজি। ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোট লুঠ করেই তিনি আবার প্রধান হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন সৌমেন্দ্রনাথবাবু।
সৌমেন্দ্রনাথবাবুর বিরুদ্ধে পাল্টা ফিরোজ গাজি বলেন, “উনি এখন নতুন করে তৃণমূল করার চেষ্টা করছেন। ভেবিয়া বাজারে তোলাবাজি করার চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ মানুষ রুখে দিয়েছেন।” তিনি আরও বলেন, “যিনি অভিযোগ করছেন তাঁকে তো পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে দেখাই যায়নি।”
রাতের বোমাবাজির পর গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। দুই নেতাই দু'জনের বিরুদ্ধে হাসনাবাদ থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে একুশে জুলাইয়ের সভা থেকে দলকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন দিদি। কিন্তু কে শোনে কার কথা! জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, হুগলি, হাওড়া থেকে দুই ২৪ পরগনা—প্রায় সব জেলাতেই শাসকদলের কোন্দল লেগে রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এমনিতেই উনিশের লোকসভায় উত্তর ২৪ পরগনার একটি আসন হারাতে হয়েছে তৃণমূলকে। বনগাঁ আসন তৃণমূলের থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। তা ছাড়া উমফানের দুর্নীতির অভিযোগে বসিরহাট, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, স্বরূপনগরের মতো এলাকাগুলিতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একুশের ভোটের আগে তৃণমূলের যখন আরও জমাট হওয়ার কথা তার বদলে রোজই এই গোষ্ঠীর সঙ্গে ওই গোষ্ঠীর লড়াই চলছে রাজ্যজুড়ে।