দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়ার তেহট্টের একই পরিবারের পাঁচজন কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। যার মধ্যে তিনজনই শিশু। একজনের বয়স ১১ বছর, একজন ছ'বছর আর একটি ন'মাসের শিশু রয়েছে। এই তিন শিশুর করোনা সংক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগে স্বাস্থ্য ভবন।
লন্ডন ফেরত এক আত্মীয়র পরিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহট্টের ১৩ জন সদস্য দিল্লি গিয়েছিলেন। ২০ তারিখ ট্রেনে করে দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। তারপরই এক মহিলার কাশি শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। তৎক্ষণাৎ তেহট্ট হাসপাতালে গিয়ে 'ট্রাভেল হিস্ট্রি' এবং উপসর্গের কথা চিকিৎসকদের জানান ওই মহিলা। এরপর দিল্লি থেকে ফেরা ১৩ জনের মধ্যে ৮ জনকে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে রাখার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। দু'দিন পর আরও কয়েকজন সদস্যের উপসর্গ দেখা যায়। গত কাল আটজনের লালারসের নমুনা পাঠানো হলে পাঁচজনেরই পজিটিভ রেজাল্ট ধরা পড়ে। আক্রান্ত পাঁচজনকে আজ রাতেই বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্সে তেহট্টের কর্মতীর্থের কোয়ারেন্টাইন থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।
বাংলায় এক ধাক্কায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ হয়ে গেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হল এই যে, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে তিনজনই শিশু। বাংলায় এর আগে যাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা হয় তরুণ-তরুণী নয়তো প্রৌঢ় বা বৃদ্ধ। নাবালক বা শিশুর শরীরে করোনা পজিটিভ এই প্রথম। এবং একসঙ্গে তিনজন। যে কারণে চিন্তার ভাঁজ স্বাস্থ্য কর্তাদের কপালে।
যেহেতু শিশু ও বৃদ্ধদের শরীরে তুলনামূলক ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটা কম থাকে তাই এই তিন শিশুকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য মহলে। উদ্বেগে সারা রাজ্যও।
ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়ে দমদমের এক প্রৌঢ় মারা গিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধেবেলা জানা যায়, রাজ্যের দশম করোনা আক্রান্ত নয়াবাদের ব্যক্তিও গভীর সঙ্কটে রয়েছেন। তাঁর মাল্টি অর্গ্যান ফেলইওরের আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যেই রাত ন'টা নাগাদ তেহট্টের এই পরিবারের খবর আসে। যে খবরে পর বাংলার করোনা দুশ্চিন্তা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।