
শেষ আপডেট: 22 July 2020 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৫ জুলাই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকের পর গতকাল একুশের মঞ্চ থেকেও রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের উদ্দেশে ঝাঁঝালো আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাল্টা তোপ দাগলেন রাজ্যপাল।
এদিন টুইটে রাজ্যপাল লিখেছেন, "গত ১৫ জুলাই এবং ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। যাঁরা সাংবিধানিক কর্তব্য পালন করছেন, তাঁরা বাচ্চাদের দস্তানা পরে নেই।"
১৫ জুলাই রাজ্যপাল সমস্ত উপাচার্যদের ভার্চুয়াল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু আচার্যের ডাকা বৈঠকে যোগ দেননি তাঁরা। সে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন জগদীপ ধনকড়। অভিযোগ তুলেছিলেন, শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনীতির গেরোয় বেঁধে রাখতে চাইছে রাজ্য সরকার।
তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে ধনকড়ের বিরুদ্ধে ঝাঁঝালো আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রণংদেহি মেজাজে মমতা বলেন, “রাজ্যপাল অমিত শাহের থেকেও ভয়ানক কথাবার্তা বলছেন। একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করছেন। যেন আমরা ওঁর চাকরবাকর!” রাজ্যপাল অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে কিছু জানানো হয় না। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী দিস্তা কাগজ দেখিয়ে বলেছিলেন, কত বার তাঁকে জবাব দেওয়া হয়েছে। কতবার মুখ্যসচিব এবং মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেছেন।
গতকাল একুশের মঞ্চ থেকে মমতা বলেন, "দিল্লির এক তাঁবেদার বলছিল, ভিসিদের শোকজ করব। আমি বলেছি, ক্ষমতা থাকলে ভিসিদের একটা শোকজ করে দেখান, গায়ে হাত দিয়ে দেখান। তারপর দেখবেন ছাত্র বিপ্লব কাকে বলে।”
পরশু দিনই অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন রাজ্যপাল। আইনশৃঙ্খলা, উমফান দুর্নীতি ও কোভিড সংক্রমণ নিয়ে রিপোর্ট দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
তবে এদিনের রাজ্যপালের টুইট নিয়ে তৃণমূল নেতারা বলছেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিক চেয়ারে বসে নির্বাচিত সরকারকে হুমকি দিচ্ছেন। বাংলার মানুষ এসব মেনে নেবে না।