দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা বাংলা যখন কড়া লকডাউনে ঘরবন্দি তখন ফের রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ‘দলদাসসুলভ’ ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ভিডিও টুইট করেছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। তাতে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতারা তাঁর কাছে অভিযোগ করেছেন, জনসমক্ষে পুলিশ তাঁদের হেনস্থা করছে। পুলিশের আচরণ একেবারে দলীয় ক্যাডারের মতো। এ ব্যাপারে দ্রুত মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা চেয়েছেন রাজ্যপাল।
রাজ্যপাল ওই ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “আমায় অনেক বিরোধী দলের সাংসদ, বিধায়ক ও নেতারা বলেছেন, তাঁদের পুলিশ হেনস্থা করছে। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। পুলিশ পার্টিজান ক্যাডারের ভূমিকা নিচ্ছে।”
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1286184620740943872
জগদ্দলে তাঁর বাড়িতে পুলিশি হানা নিয়ে সম্প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। বিজেপি অভিযোগ করেছিল, অর্জুন এবং তাঁর বিধায়ক পুত্র পবনকে এনকাউন্টার করার ছক করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। অর্জুনের বক্তব্য ছিল, “আমাকে আটকাতে না পেরে এখন আমার পরিবারকে টার্গেট করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেট। সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া পুলিশ পাঠিয়ে দিচ্ছে আমার বাড়িতে।” এ নিয়ে রাজ্যপালকেও নালিশ করেছিলেন অর্জুন।
শুধু বিজেপি সাংসদ নন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানও চিঠি লিখেছিলেন রাজ্যপালকে। উমফানের পরবর্তী সময়ে সিইএসসির কাণ্ডকারখানার প্রতিবাদে স্থানীয় মানুষকে নিয়ে শেওড়াফুলি ফাঁড়ির সামনে রাস্তা অবরোধে বসেছিলেন চাঁপদানির বিধায়ক। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, এক পুলিশ আধিকারিক তাঁর সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন। মান্নানবাবু বলেন, “আমার ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও কোনও পুলিশ আধিকারিক আমার সঙ্গে এই ভঙ্গিতে কথা বলেননি।” এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল দু’জনকেই চিঠি লিখেছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা।
তা ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রাণাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা-সহ একাধিক বিরোধী নেতানেত্রীরা রাজ্যপালের কাছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানান। সপ্তাহ দুয়েক আগে চারটি বাম ছাত্র সংগঠন আচার্য তথা রাজ্যপালকে যে স্মারকলিপি দিয়েছিল তাতেও বিভিন্ন জায়গায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি ‘গুণ্ডামি’র অভিযোগ জানানো হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, সবটা এক জায়গায় করেই মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা চেয়েছেন ধনকড়।
গত কয়েকদিনে মমতা-ধনকড় সংঘাত নয়া মাত্রা নিয়েছে। ১৫ জুলাই নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকের পর একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও রাজ্যপালকে ‘কেন্দ্রের তাঁবেদার’ বলে আক্রমণ শানান। দুই বক্তৃতাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে পাল্টা তোপ দাগেন ধনকড়। এদিন ফের একবার মুখ্যমন্ত্রীর জবাবদিহি চাইলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। তা নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ঘরোয়া ভাবে দলের এক নেতা বলেন, রাজ্যপাল কেন বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতো আচরণ করছেন, আগে তিনি তার ব্যাখ্যা দিন।